ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা এলাকায় বন্ধুর জন্মদিন উদযাপন শেষে বাসায় ফেরার পথে দুই তরুণীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের মামলায় ৬ যুবককে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- রাহুল, মো. ডায়মন্ড, আফসার উদ্দিন অনিম, পারভেজ হক পলাশ, মিনহাজ ওরফে মিনহাজ আবেদীন এবং মিনহাজ ওরফে বাবু ওরফে মিনহাজ বাবু।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) সাজার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দণ্ডপ্রাপ্তদের স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগী বা তার পরিবারকে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আসামিদের মধ্যে রাহুল পলাতক রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। রায় শেষে বাকী আসামিদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজহার থেকে জানা যায়, দুই তরুণীসহ তাদের কয়েকজন বন্ধু ২০২২ সালের ২৫ জুন বিকেলে এক বন্ধুর জন্মদিন উদযাপন করতে ঘুরতে বের হয়। রাত পৌনে ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জের পানকৌড়ি রেস্টুরেন্টে যায়। খাওয়া-দাওয়া শেষে বাসায় ফেরার জন্য শুভাঢ্যা এলাকায় অটোরিক্সা খুঁজছিল তারা। সে অবস্থায় একটি অটোরিকশা নিয়ে আসামিরা তাদের পথরোধ করে। আসামিরা ভুক্তভোগীদের জিম্মি করে রতনের খামার নামক স্থানে নিয়ে যায়। মারধর করে তাদের টাকা-পয়সা, মোবাইল নিয়ে নেয় আসামিরা। এরপর ওই দুই তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে। তাদের মোবাইলও তারা নিয়ে নেয়। পরে দুই তরুণীর বন্ধুরা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় এক তরুণীর বাবা ২৯ জুন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর মিনহাজ আবেদীনকে গ্রেফতার করে র্যাব। তার কাছ থেকে এক তরুণীর মোবাইল উদ্ধার করা হয়। মোবাইলে ভুক্তভোগী দুই তরুণীর ধর্ষণের ভিডিও পাওয়া যায়। মামলার তদন্ত শেষে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই শরজিৎ কুমার ঘোষ ৬ যুবককে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এরপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
সময়ের আলো/আআ