যেভাবে শেষ হয় শেখ হাসিনার সরকারের অধ্যায়

সময়ের আলো ডেস্ক

জাতীয়

ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ছাড়েন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে তার বিদায়ের সিদ্ধান্ত হঠাৎ

2026-08-05T12:14:33+00:00
2026-08-05T12:14:33+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬,
২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
যেভাবে শেষ হয় শেখ হাসিনার সরকারের অধ্যায়
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৪ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ছাড়েন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে তার বিদায়ের সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে আসেনি। এর আগে কয়েক দিন ধরে রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন স্তরে দ্রুত বদলে যেতে থাকে পরিস্থিতি। নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থান, গণভবনে টানা বৈঠক এবং শেষ মুহূর্তে সামরিক নেতৃত্বের মূল্যায়ন— সব মিলিয়ে ঘণ্টায় ঘণ্টায় পাল্টাতে থাকে সংকটের চিত্র।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ৩ আগস্ট সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সেনা সদরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে কর্মকর্তাদের বড় একটি অংশ বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগে অনাগ্রহের কথা জানান। একই সময়ে রাজপথে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে থাকে এবং বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ তাতে যুক্ত হন।

পরদিন ৪ আগস্ট গণভবনে দিনভর ও গভীর রাত পর্যন্ত একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলন দমন, জরুরি অবস্থা জারি এবং রাজনৈতিক সমাধান— বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলে। সূত্রগুলোর ভাষ্য, সেনাপ্রধান একপর্যায়ে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসার পরামর্শ দেন এবং সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে বলেও জানান।

এদিকে আন্দোলনের মুখে সরকার টিকিয়ে রাখার নানা কৌশল নিয়েও আলোচনা চলতে থাকে। আওয়ামী লীগের ভেতরেও মতভেদ ছিল। কেউ শক্তি প্রয়োগের পক্ষে, কেউ পদত্যাগ ও অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার পক্ষে মত দেন। তবে কোনো সিদ্ধান্তই দ্রুত কার্যকর হয়নি।

৫ আগস্ট সকালে শেখ হাসিনা আবারও সেনাপ্রধানকে গণভবনে ডাকেন। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, তখন তার হাতে পদত্যাগপত্র ছিল। পরে সেনাপ্রধান সেনা সদরে ফিরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেন।

এদিকে সকাল থেকেই কারফিউ উপেক্ষা করে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষ ঢাকার দিকে রওনা হন। উত্তরা, সাভার, গাজীপুর, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন দিক থেকে ঢাকামুখী জনস্রোত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

দুপুরের দিকে শেখ হাসিনা ছোট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে গণভবন ত্যাগ করেন। প্রথমে হেলিকপ্টারে কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে যান। পরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি সি–১৩০ পরিবহন বিমানে ভারতের উদ্দেশে রওনা দেন। পরে ভারতীয় গণমাধ্যম জানায়, বিমানটি গাজিয়াবাদের হিন্দন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে।

শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর প্রকাশ হওয়ার পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতা, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য দিশেহারা হয়ে পড়েন। কেউ আত্মগোপন করেন, কেউ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে রাজধানী ছাড়েন। গণভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জাতীয় সংসদ ভবনে প্রবেশ করেন হাজারো আন্দোলনকারী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি কেবল এক দিনের গণবিক্ষোভের ফল ছিল না। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংকট, রাষ্ট্রীয় শক্তির ওপর অতিনির্ভরতা, দ্রুত বদলে যাওয়া পরিস্থিতি এবং সংকট মোকাবিলায় সিদ্ধান্তহীনতা— সবকিছুর সমন্বয়েই ৩ থেকে ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ শেষ পর্যন্ত তার দেশত্যাগের মধ্য দিয়ে পরিণতি পায়।


সময়ের আলো/কেএইচ


  বিষয়:   সময়ের আলো  গণঅভ্যুত্থান 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: