র‌্যাব বিলুপ্ত, নতুন নাম এসআরবি

সালাহ উদ্দিন চৌধুরী

জাতীয়

এলিট ফোর্স হিসেবে পরিচিত র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে

2026-08-07T01:34:33+00:00
2026-08-07T01:34:33+00:00
 
  শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬,
২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
র‌্যাব বিলুপ্ত, নতুন নাম এসআরবি
সালাহ উদ্দিন চৌধুরী
প্রকাশ: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১:৩৪ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
এলিট ফোর্স হিসেবে পরিচিত র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন বাহিনীর নাম রাখা হয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এ বাহিনীর জন্য থাকবে সরকার নির্ধারিত প্রতীক, পতাকা ও স্বতন্ত্র পোশাক। ফলে দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পরিচিত কালো পোশাকের র‌্যাব সদস্যদের আর দেখা যাবে না।

এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন ২০২৬’-এর একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে। জনমত গ্রহণের জন্য এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

বিভিন্ন সময়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে র‌্যাব দেশ-বিদেশে সমালোচিত। একাধিক রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংস্থা বাহিনীটি বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়ে আসছিল। সেই প্রেক্ষাপট বিবেচনায় র‌্যাবের পরিবর্তে এসআরবি নামে নতুন একটি বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে নাম ও সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন এলেও নতুন ইউনিটটির কার্যপরিধি অনেকটা র‌্যাবের মতোই রাখা হয়েছে। অভিযান পরিচালনা, তল্লাশি, গ্রেফতার ও তদন্তের মৌলিক ক্ষমতা বহাল থাকছে। তবে জবাবদিহি বাড়াতে নতুনভাবে যুক্ত করা হয়েছে অভিযোগ প্রতিকার কমিটি এবং সদস্যদের জন্য আরও সুস্পষ্ট শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি।

খসড়া আইনে বলা হয়েছে, এসআরবি হবে বাংলাদেশ পুলিশের অধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট। এর নেতৃত্বে থাকবেন অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশন গঠন করা যাবে। সদর দফতর থাকবে ঢাকায়, তবে দেশের যেকোনো স্থানে ইউনিট স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

শুধু পুলিশ নয়, অন্যান্য শৃঙ্খলাবাহিনী থেকেও সদস্যদের প্রেষণে এনে এই ইউনিট গঠন করা যাবে। প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী নির্ধারিত শর্তে সদস্যদের প্রেষণে বা অস্থায়ীভাবে সংযুক্ত করা যাবে। প্রেষণে নিয়োগের মেয়াদ ন্যূনতম দুই বছর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

র‌্যাবের বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে নতুন বাহিনীর জবাবদিহি বাড়াতে আইনের খসড়ায় কয়েকটি নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অভিযোগ প্রতিকার কমিটি।

এই কমিটির সভাপতি হবেন এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক। সদস্য হিসেবে থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পুলিশ সদর দফতরের একজন কর্মকর্তা, পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) এবং মানবাধিকার, আরবি আইন বা বিচার প্রশাসনে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সরকার মনোনীত একজন ব্যক্তি।

কমিটি নাগরিকদের অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে। প্রয়োজন হলে আলাদা অনুসন্ধান দল গঠন করা যাবে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারবে। পাশাপাশি বাহিনীর কার্যক্রমে অবৈধ প্রভাব, হয়রানি, অনিয়ম, পদোন্নতি, পদায়ন, বিভাগীয় শাস্তি বা অন্যায্য আচরণ-সংক্রান্ত অভিযোগও পর্যালোচনা করতে পারবে।

ইউনিটের আইনানুগ কার্যক্রমে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিধিবহির্ভূত বা অযাচিত প্রভাব বিস্তার করলে এবং তা অনুসন্ধানে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করার ক্ষমতাও থাকবে এই কমিটির। নাগরিকদের অভিযোগ এবং বাহিনীর সদস্যদের অভিযোগ-সংক্রান্ত ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন মহাপরিচালকের মাধ্যমে প্রতি তিন মাস অন্তর সরকারের কাছে পাঠাতে হবে।

খসড়া আইনে সদস্যদের শৃঙ্খলা ও আচরণবিধিও বিস্তারিতভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে মাদকাসক্ত থাকা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য, দায়িত্বে অবহেলা, বেআইনি অর্থ আদায়, সরকারি অস্ত্র বা সরঞ্জামের অপব্যবহার, অপরাধীকে পালাতে সহায়তা কিংবা জুয়া ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে নিজ বাহিনীতে ফেরত পাঠিয়ে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে।

খসড়া আইন অনুযায়ী ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করে এসআরবির সদস্যরা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতার করতে পারবেন। মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসী আস্তানা, মানব পাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবিরোধী অপরাধে অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা থাকবে বাহিনীটির।

বর্তমান র‌্যাবের জনবল, তহবিল, দায়-দায়িত্ব, চলমান মামলা, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং বিদ্যমান চুক্তি এসআরবির অধীনে স্থানান্তরিত হবে। নতুন বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ র‌্যাবের বিদ্যমান বিভাগীয় কার্যবিধি কার্যকর থাকবে।

খসড়ার অষ্টম অধ্যায়ে বলা হয়েছে, আইনটি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্য আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অর্ডিন্যান্স ১৯৭৯-এ র‌্যাব গঠন-সংক্রান্ত সব বিধান বাতিল হবে। তবে নতুন আইনের অধীনে বিধিমালা জারি না হওয়া পর্যন্ত ওই আইনের ১৪ ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা র‌্যাব বিধিমালা ২০০৫ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিধিমালা বহাল থাকবে।

এ ছাড়া খসড়ায় বলা হয়েছে, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইনের অধীনে কোনো র‌্যাব সদস্যের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা বা আইনগত কার্যধারা আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চলমান থাকলে তা এমনভাবে নিষ্পত্তি করা হবে, যেন পূর্ববর্তী আইনটি রহিত হয়নি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, জনমত গ্রহণ শেষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নিয়ে খসড়াটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর তা জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। নতুন আইন কার্যকর হলে র‌্যাবের বিদ্যমান আইনি ভিত্তি বিলুপ্ত হবে, তবে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত আগের কিছু বিধান কার্যকর থাকবে।

উল্লেখ্য, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ গঠিত হয় এবং একই বছরের ১৪ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে।

সময়ের আলো/আআ



  বিষয়:   র‌্যাব  বিলুপ্ত  এসআরবি  বাহিনী  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: