শিক্ষা মন্ত্রনালয় কর্তৃক এনটিআরসিএ (NTRCA) থেকে ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা প্রদানের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে ছাত্র জমায়েত কর্মসূচি পালন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু)।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে ছাত্র জমায়েত কর্মসূচি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা প্রদক্ষিণ করে ডাকসু ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে এই কর্মসূচি শেষ হয়।
এসময় তারা 'কমিটি না মেধা, মেধা মেধা,'
'এসো ভাই এসো বোন , গড়ে তুলি আন্দোলন',
'কোটা গেলে যেই পথে , কমিটি যাবে সেই পথে',
'বাণিজ্য না শিক্ষা, শিক্ষা , শিক্ষা' ইত্যাদি স্লোগান দেয়।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, “হাসিনা যেমন মেধার সামনে এক কোটার দেয়াল দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল, আপনারা আবার দুই বছরের মাথায় শিক্ষার্থীদের মেধার সামনে পুনরায় কমিটি নামক দুর্নীতির দেয়াল দাঁড় করিয়ে দিচ্ছেন।”
এবি জুবায়ের বলেন, বিএনপি সরকার এনটিআরসিএর পরিবর্তে ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা তুলে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। এর ফলে মেধা ও স্বচ্ছতার পরিবর্তে টাকা লেনদেন, রাজনৈতিক পরিচয় এবং ‘মামা-খালুর জোরে’ নিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, “গতকালকে আমরা যখন এটা নিয়ে প্রতিবাদ জানালাম, অনলাইনে ব্যাপক হারে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানালো। এরপরে আমরা দেখতে পেলাম, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ফেসবুকে এসে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, এটা ছিল গুজব। আবার তিনি আজকে বলতেছেন, আমাদের নাকি কান চিলে নিয়ে গিয়েছে।”
তিনি বলেন, “৩ আগস্ট যে সভা হয়েছে, সেই সভায় আপনি নিজে স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন। আপনার উপস্থিতিতে, আপনার সম্মতিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে - এখন থেকে এনটিআরসিএ শুধুমাত্র শিক্ষক নিবন্ধন এবং প্রত্যায়নের কাজ করবে, নিয়োগের সুপারিশ করবে না। এর পরবর্তীতে ম্যানেজিং কমিটি অথবা গভর্নিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।”
তিনি বলেন, কোনো ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং কমিটির মাধ্যমে নয়, বরং মেধা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এনটিআরসিএর মাধ্যমেই শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে।
“আমরা আন্দোলন করতে চাই না। বক্তব্য দিতে চাই না, চিল্লাপাল্লা করতে চাই না। আমরা স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স চাই। আপনি স্পষ্ট করে বলবেন - ম্যানেজিং কমিটি নয়, গভর্নিং কমিটি নয়; বরঞ্চ মেধা এবং স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এনটিআরসিএর মাধ্যমেই শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে,” বলেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক।
ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, "এর আগে বিএনপি বিসিএসের ক্ষেত্রেও অবৈধ নিয়োগের মাধ্যমে বগুড়া আজিজুল হক কলেজ থেকে বিশাল সংখ্যক নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। একজন অযোগ্য শিক্ষক যদি নিয়োগ হয়, এই নিয়োগের কারণে একজন যোগ্য ক্যান্ডিডেট তো অধিকারবঞ্চিত হন অবশ্যই। আর সেই সঙ্গে যারা শিক্ষার্থী আছে, তাদের ভবিষ্যৎকে নষ্ট করার একটা চক্রান্তও কিন্তু হচ্ছে এর মাধ্যমে। বাংলাদেশের যেই শিক্ষা ব্যবস্থা, এই শিক্ষা ব্যবস্থার কফিনে আবার শেষ পেরেক মারার একটা চক্রান্ত চলছে।"
তিনি বলেন, "নতুন করে তারা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি প্রান্তরে তাদের দলীয় নেতাকর্মী, তাদেরকে ক্ষমতায়ন করে, তাদেরকে ম্যানেজিং কমিটিগুলোতে বসিয়ে তাদের স্বজনপ্রীতির সুযোগ দিচ্ছে। আর্থিক লেনদেনের সুযোগ দিচ্ছে। তাদেরকে অবৈধ ক্ষমতা প্রয়োগের এখানে সুযোগ করে দিচ্ছে।"
হুঁশিয়ার দিয়ে তিনি বলেন, "যেভাবে শেখ হাসিনা সরকার বিসিএস কোটা নিয়ে আসার কারণে সারা বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করেছিল, তারা এই বাংলাদেশে টিকে থাকতে পারে নাই। আপনারাও যদি একই চেষ্টা করেন, আপনারাও যদি তরুণ সমাজকে বঞ্চিত করতে চান, যোগ্য ক্যান্ডিডেটকে বঞ্চিত করতে চান, তাহলে অতীতের শেখ হাসিনা সরকার, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের পরিণতি আপনারা যদি ভুলে যান, এই দেশপ্রেমিক জনতা কিন্তু ভুলে যায়নি।"
"এখনও সময় আছে, আপনারা সঠিক পথে ফিরে আসুন। দেশবিরোধী, জনগণের ম্যান্ডেটবিরোধী কোনো চক্রান্ত, কোনো সিদ্ধান্ত আপনারা নেবেন না।"
সময়ের আলো/টিকে