গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সীমা ও দায়িত্ব নিয়ে কখনো স্পষ্ট ঐকমত্য তৈরি হয়নি

সাব্বির আহমেদ

জাতীয়

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন। ২০০১ সালে বরিশাল-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আর ২০২২ সালে ‘বিএনপি

2026-08-13T13:02:15+00:00
2026-08-13T13:02:15+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬,
২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সীমা ও দায়িত্ব নিয়ে কখনো স্পষ্ট ঐকমত্য তৈরি হয়নি
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ১:০২ পিএম 
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি : সংগৃহীত
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন। ২০০১ সালে বরিশাল-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আর ২০২২ সালে ‘বিএনপি মিডিয়া সেল’-এর প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক মনোনীত হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ওই মাসের ১৭ তারিখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান জহির উদ্দিন স্বপন। সম্প্রতি গণমাধ্যম, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বলেছেন সময়ের আলোর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক সাব্বির আহমেদ


সময়ের আলো : বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কী ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে?
জহির উদ্দিন স্বপন : দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করেছি। আমাদের নেতা তারেক রহমান শুরু থেকেই স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন- গণমাধ্যমের জন্য দায়িত্বশীল স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না, আবার স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে অপতথ্য বা বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করছি।


অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একটি কমিশন গঠিত হয়েছিল এবং তারা বেশ কিছু সুপারিশ দিয়েছিলেন। বর্তমান সরকার কি সেই সুপারিশগুলোর ভিত্তিতেই এগোচ্ছে, নাকি নতুনভাবে কাজ করছে?
আমরা অতীতের সব কমিশন, সুপারিশ ও প্রতিবেদন গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছি। কোনো ইতিবাচক প্রস্তাব আমরা উপেক্ষা করছি না বরং আগের অভিজ্ঞতা ও বর্তমান বাস্তবতা- দুটি সমন্বয় করেই একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য কাঠামো গড়ে তুলতে চাই।


প্রায় সব সরকারই ক্ষমতায় আসার আগে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর অনেক সময় সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায় না। আপনারা কীভাবে এই আস্থা তৈরি করবেন?
সমস্যার একটি বড় কারণ হলো- গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সীমা ও দায়িত্ব নিয়ে কখনো স্পষ্ট ঐকমত্য তৈরি হয়নি। একদিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে, অন্যদিকে স্বাধীনতার নামে বিশৃঙ্খলা বা অপতথ্য ছড়ানোর সুযোগও বন্ধ করতে হবে। এই ভারসাম্য নির্ধারণ করতেই আমরা সব অংশীজনকে নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি।


অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা জবাবদিহি নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। সরকার এ ধরনের ঘটনা কীভাবে দেখছে?
আমাদের অভিজ্ঞতা দুটি বিষয় শেখায়। প্রথমত অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি সমাজের জন্য ইতিবাচক। দ্বিতীয়ত কিছু ক্ষেত্রে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার আড়ালে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো অপব্যবহারও হয়েছে। তাই আমরা প্রকৃত অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা উৎসাহিত করতে চাই, পাশাপাশি অপব্যবহার ঠেকানোর জন্য কী ধরনের নীতিমালা বা নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন, তা গণমাধ্যমের অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেই নির্ধারণ করতে চাই। এ বিষয়টিও গণমাধ্যম কমিশনের আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত।


তথ্য অধিকার আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে এখনও নানা জটিলতা রয়েছে। সরকারি দফতর থেকে তথ্যপ্রাপ্তি আরও সহজ করতে সরকারের পরিকল্পনা কী?
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তথ্য অধিকারসংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল। আমরা সেটি স্থায়ী আইনের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছি না। তথ্য অধিকার একটি মৌলিক অধিকার। তাই অংশীজনদের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা করে একটি পূর্ণাঙ্গ, যুগোপযোগী ও গ্রহণযোগ্য আইন প্রণয়নের লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য মোকাবিলায় মন্ত্রণালয়ের মনিটরিংব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?
বর্তমান সরকারি জনবল কাঠামো মূলত প্রচলিত গণমাধ্যমের জন্য তৈরি। কিন্তু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপতথ্য মোকাবিলার জন্য ভিন্ন ধরনের দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা দরকার। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় আমরা একটি ‘নিউ মিডিয়া’ প্রকল্প হাতে নিয়েছি, যার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপতথ্য মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো হবে।


মূলধারার গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মধ্যে তথ্য যাচাই ও জবাবদিহির ভারসাম্য কীভাবে নিশ্চিত করা হবে?
ইন্টারনেটের এই যুগে গণমাধ্যমের পরিবেশ পুরোপুরি বদলে গেছে। আগে প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো অপতথ্য থেকে জনগণকে রক্ষা করা। এ ক্ষেত্রে সরকার ও পেশাদার সাংবাদিকদের যৌথভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে হবে। যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতিমধ্যে এ বিষয়ে বিভিন্ন আইন করেছে। আমরা সেসব অভিজ্ঞতাও পর্যালোচনা করছি, যাতে বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি কার্যকর নীতিমালা তৈরি করা যায়।


ডিজিটাল যুগে বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন আরও আধুনিক ও তরুণ প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে সরকারের পরিকল্পনা কী?
আমরা এখন একটি ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে বাস করছি, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এখনও অ্যানালগ অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করছি। তাই প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে আমাদের ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। সক্ষমতা তৈরি হলে রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমকেও আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন কনটেন্ট কৌশলের মাধ্যমে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা সম্ভব হবে।


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামো নিয়ে সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। এ বিষয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
আমার মতে, মূল সমস্যা আইন নয় বরং আইনের প্রয়োগ। কোনটি তথ্য, কোনটি অপতথ্য এবং কোন ক্ষেত্রে রাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে- এই বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত না থাকলে অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়। তাই আমরা আগে অপরাধের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণে গুরুত্ব দিচ্ছি, যাতে আইনের প্রয়োগ স্বচ্ছ ও ন্যায্য হয়।


স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পরও বাংলাদেশের কোনো সংবাদপত্র বা টেলিভিশন আন্তর্জাতিক মানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম হয়ে উঠতে পারেনি। এর জন্য সরকারের কি দায় রয়েছে?
নিশ্চয়ই সরকারের দায় রয়েছে। আমরা মাত্র কয়েক মাসের সরকার হলেও রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতায় অতীতের সরকারগুলোর অভিজ্ঞতা ও সীমাবদ্ধতা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। বিরোধী দলে থাকার সময় আমরা যেসব সমস্যার কথা বলেছিÑ গণমাধ্যমের ওপর অযাচিত চাপ, তথ্যের অবাধ প্রবাহে বাধা কিংবা রাষ্ট্রশক্তির অপব্যবহার- সেসব অভিজ্ঞতা থেকেই আমরা একটি অধিক স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গণমাধ্যম পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই।

আপনাকে ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ সময়ের আলোকেও।


সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও


  বিষয়:   গণমাধ্যম  স্বাধীনতা  সীমা ও দায়িত্ব  স্পষ্ট ঐকমত্য  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: