মির্জা ফখরুলই রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে বিএনপি। সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধিত্ব থাকায় ক্ষমতাসীন

2026-08-14T01:25:00+00:00
2026-08-14T01:25:00+00:00
 
  শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬,
৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
মির্জা ফখরুলই রাষ্ট্রপতি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১:২৫ এএম 
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি : সংগৃহীত
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে বিএনপি। সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধিত্ব থাকায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, এখন বাকি কেবল আনুষ্ঠানিকতার।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হয়েছেন দলের সংগ্রামী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার কারণে তিনি দলের মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

তিনি বলেন, কিছুক্ষণ আগে দলের চেয়ারম্যান এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

এর আগে রাষ্ট্রপতির দলীয় মনোনয়ন নিয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আলোচনা শেষে সিনিয়রদের সামনেই মির্জা ফখরুলের হাতে দলের মনোনয়ন তুলে দেন তিনি। এরপর দুপুরে ইসিতে মনোনয়নপত্র জমা দেয় বিএনপি। দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে এ মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন। ‘ঘোষণা ও বিবৃতিসহ’ মনোনীত প্রার্থীর সই, প্রস্তাবক ও সমর্থকের নাম, ঠিকানা, সই সংবলিত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়।

দুপুর আড়াইটায় মনোনয়নপত্র নিয়ে নির্বাচন ভবনে আসেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, আখতারুজ্জামান মিয়া ও এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান; দলের যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী ও হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ প্রতিনিধি দল। মনোনয়নপত্র গ্রহণকালে সিইসির সঙ্গে ইসি সচিব আখতার আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।


প্রস্তাবক ও সমর্থক কে
বিএনপির পক্ষ থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল; তবে জমা দেওয়া হয়েছে একটি। এ মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ও সমর্থক হলেন যথাক্রমে আবদুল মঈন খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তার দফতরে আবেদনটি দুপুরে জমা দেওয়া হয়। মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকারীর নাম দেওয়া হয়েছে বিএনপির নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মঈন খান। সমর্থনকারী হলেন ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল
দেশের বাইশতম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গুরুতর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনে ভোট করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।

মনোনয়নপত্র দাখিল : ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা (নির্বাচনি কর্তার অফিস কক্ষ)।
মনোনয়নপত্র যাচাই : ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বাছাই পর্যন্ত (নির্বাচনি কর্তার অফিস কক্ষ)।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় : ১৮ আগস্ট বিকাল ৪টা পর্যন্ত (নির্বাচনি কর্তার অফিস কক্ষ)।
ভোট : ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত (জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষ)

ভোটাভোটি ফের
১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাতে ‘নির্বাচনি কর্তা’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হয়। মনোনয়নপত্রে প্রার্থীর নিজেরও সম্মতিসূচক সই থাকতে হয়। মনোনয়নপত্র জমা ও যাচাই-বাছাইয়ের স্থান প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়। আর ভোট হবে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে। বাছাইয়ে বৈধ প্রার্থী একজন হলে নির্বাচন কমিশন তাকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবে। তবে একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে তাদের মধ্যে ভোট হবে। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট হয়েছিল। এরপর থেকে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।


৩৫ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো ভোট হচ্ছে এবার : বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এলডিপি প্রেসিডেন্ট অলি আহমদের মনোনয়নপত্র এদিনই জমা দিয়েছে বিরোধী জামায়াত জোট।

এবার ভোটার ৩৪৯ জন
সংসদকক্ষে ভোটের প্রস্তুতিমূলক সভাও হয়েছে। নির্বাচনি কর্তা ২০ আগস্ট সংসদকক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য বেলা ২টায় সংসদ সদস্যদের বৈঠক ডেকেছেন। সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে একটি আসনে প্রার্থিতা বাতিল রয়েছে। সংরক্ষিত আসনে এমপি আছেন ৫০ জন। সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ সংসদে এবার ৩৪৯ জন এমপি রয়েছেন, যারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।
এরমধ্যে সংরক্ষিত আসন মিলিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য ২৪৭ জন; জামায়াতের ৭৭ জন।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র ৮ জন, এনসিপির ৮ জন, খেলাফত মজলিসের ৩ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ১ জন, বিজেপির ১ জন, গণসংহতি আন্দোলনের ১ জন, গণপরিষদের ১ জন, খেলাফত মজলিসের ১ জন এবং জাগপার ১ জন সদস্য রয়েছেন সংসদে।

সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে এমপিরা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। কেউ দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে।

চিফ হুইপ বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু সংশোধিত হয়নি, সুতরাং এটা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কার্যকর হবে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা


  বিষয়:   মির্জা ফখরুল  রাষ্ট্রপতি  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: