সেভেন সিস্টার্সের উন্নতিতে গুরুত্ব দিল্লির, পাশে চায় ঢাকাকে

এমএকে জিলানী

জাতীয়

ঢাকা-দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই বৃহস্পতিবার ভারতের রাজ্যসভায় বাংলাদেশ

2026-08-14T01:43:29+00:00
2026-08-14T01:43:29+00:00
 
  শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬,
৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর ইস্যু
সেভেন সিস্টার্সের উন্নতিতে গুরুত্ব দিল্লির, পাশে চায় ঢাকাকে
এমএকে জিলানী
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪৩ এএম 
বাম থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা-দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই বৃহস্পতিবার ভারতের রাজ্যসভায় বাংলাদেশ নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্নের মুখোমুখি হন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। প্রশ্নগুলোর জবাবে তিনি জানান, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহন সহজ করতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত সংযোগ প্রকল্পের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় সড়ক ও রেল যোগাযোগের উন্নয়ন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রবেশাধিকার আরও সহজ করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

ভারতের রাজ্যসভার সদস্য রাজীব কুমার বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কাছে চারটি প্রশ্ন করেন। এর মধ্যে প্রথম প্রশ্নটি ছিল— মন্ত্রণালয় কি বাংলাদেশের সড়ক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য পরিবহনের একটি কার্যকর উপায় খুঁজে বের করার জন্য বিবিআইএন চুক্তির কোনো বিকল্প নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা করছে, যদি করে থাকে, তবে এ পর্যন্ত গৃহীত প্রচেষ্টার বিস্তারিত বিবরণ কী? দ্বিতীয় প্রশ্নটি ছিল— কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের ভারতীয় ভিসা, বিশেষত চিকিৎসা ভিসা পেতে গড়ে কত দিন সময় লাগে; তৃতীয় প্রশ্ন— ভারতে অবস্থিত আমন্ত্রণকারী হাসপাতাল থেকে পাঠানো চিঠিটি আসল কি না তা যাচাই করার জন্য কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা আছে কি না এবং চতুর্থ প্রশ্ন— দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে এই প্রক্রিয়াটির উন্নয়নে গৃহীত প্রচেষ্টার বিশদ বিবরণ।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং প্রথম প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ভারত সরকার বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত সংযোগ প্রকল্পগুলোর উন্নয়নে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে, যা সড়ক ও রেল যোগাযোগ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও সংযোগ বৃদ্ধিসহ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে প্রবেশাধিকার উন্নত করবে।


বাকি প্রশ্নগুলোর জবাবে কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, প্রতিটি মামলার যোগ্যতা, সহায়ক নথিপত্র এবং সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময় পরিবর্তিত হয়। বাংলাদেশে অবস্থিত আমাদের মিশন ও পোস্টগুলো মেডিকেল ভিসার আবেদনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পর সাধারণত ৫-৬ কার্যদিবসের মধ্যে মেডিকেল ভিসা দেওয়া হয়। হাসপাতালের দেওয়া আমন্ত্রণপত্র যাচাইয়ের জন্য যথাযথ পদ্ধতি রয়েছে। মিশন ভারতীয় ভিসা আবেদনকেন্দ্রের হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে আবেদনকারীদের নির্দেশনা দিয়ে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করে। কেন্দ্রটি প্রকৃত পদ্ধতিগত সমস্যার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয় এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী ভিসা আবেদনগুলোর দ্রুত প্রক্রিয়াকরণে সাহায্য করে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, চলতি আগস্টে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েন কাটিয়ে নতুন সমঝোতা লক্ষ করা যাচ্ছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী গত জুনে ঢাকা এলেও গত ১০ আগস্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পান। তার আগের দিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সব দিক বিশেষ করে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হলে কোথায় জোর দিতে হবে, কোথায় ছাড় দিতে হবে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনায় দুপক্ষই নিজ নিজ স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার সমঝোতা করে।

এ কারণে গত ১০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরই ভারতীয় হাইকমিশনার দিল্লি যান এবং পরদিন ১১ আগস্ট ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন। এ পর্যায়ে ভারত বাংলাদেশকে আরও জ্বালানি (ডিজেল) সরবরাহে সম্মত হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আর দিল্লিতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কথা বলতে দেওয়া হবে না— এ বিষয়েও সম্মতি দিয়েছে ভারত। দুপক্ষের মধ্যে আলোচনা চলমান। এর প্রেক্ষিতে এ মাসের শেষ দিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের বিষয়টিও জোরালো হচ্ছে। ভারতীয় হাইকমিশনার শুক্রবার দিল্লি থেকে ঢাকায় আসার কথা রয়েছে। তিনি ঢাকায় এলে বিষয়গুলো আরও খোলাসা হবে।


পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, এর মধ্যে যদি সবকিছু মিলে যায়, অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হবে। বাংলাদেশ সরকার পজিটিভ; কিন্তু এটা নির্ভর করবে প্রধানমন্ত্রীর সময়ের ওপর এবং দুই দেশের আলোচনার কতটুকু এগোচ্ছে সেটার ওপর।

প্রধানমন্ত্রী কি ব্রিকসের দাওয়াতে ভারত সফরে যাবেন নাকি আলাদা দ্বিপক্ষীয় সফর হবে— সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্রিকস তো অনেক দেরি। এক মাসের মধ্যে অনেক কিছু হয়ে যেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী যদি ভারত সফর করেন, তবে কি সম্পর্কের টানাপোড়েন কমার কোনো সুযোগ আছে— এ প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেকোনো সময় যখন দুই দেশের প্রধান কথা বলেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয়, তখন অনেক সমস্যা সমাধানেরই সুযোগ থাকে। সেই সুযোগটা তো আছেই, রয়ে গেছে এবং ভারতের দিক থেকেও উচিত হবে সেই সুযোগের সদ্ব্যব্যবহার করা। আমরা তো আগেই বলেছি, একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি যখন ভারতের মাটিতে বসে কথা বলে, সেটা বাংলাদেশের জনগণ ভালোভাবে নেবে না, নেয় না। জুলাইয়ের কথা এখনও মানুষের মনে জাগ্রত আছে, রক্তের দাগ এখনও শুকায়নি। সুতরাং সেই জায়গাটা থেকে অবশ্যই আমাদের সেনসিটিভ হতে হবে। কিন্তু যেকোনো সময় যখন দুই দেশের প্রধান বসবেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন বসেন, তখন অবশ্যই অনেক সমস্যার সমাধান হতে পারে, অনেক সমস্যার সমাধান হওয়া সম্ভব এবং সেটাই আমরা আশা করি। এবং এটা যেন ভারত মনে রাখে, সেটাও আশা করি।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা


  বিষয়:   প্রধানমন্ত্রী  ভারত সফর  সেভেন সিস্টার্স  দিল্লি  ঢাকা  সময়ের আলো  বাংলাদেশ  তারেক রহমান  ভারত  নরেন্দ্র মোদি 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: