বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও ইরানের ছোট আকারের ড্রোনের বড় ঝাঁক মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সামরিক ঘাঁটি এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। মার্কিন সামরিক নেতৃত্বের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে বিষয়টি সামনে এসেছে। বিশেষ করে ড্রোন শনাক্তকরণ ও প্রতিহত করার সক্ষমতায় ঘাটতির কথা স্বীকার করা হয়েছে।
মার্কিন নর্দার্ন কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল জোসেফ জারার্ড জানিয়েছেন, ছোট ড্রোনের বড় একটি দল একসঙ্গে আক্রমণ চালালে তা মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সামরিক স্থাপনা এখনো পর্যাপ্ত সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। তার মতে, সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ড্রোন শনাক্ত করার ক্ষেত্রে। কোনো ড্রোন ঘাঁটির দিকে এগিয়ে আসছে, তা সময়মতো বুঝতে না পারলে প্রতিরোধের সুযোগও কমে যায়। একসঙ্গে অনেক ড্রোন এলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
প্রতিটি ড্রোন ধ্বংস করতে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করাও দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর সমাধান নয়। এ কারণে রেডিও-ফ্রিকোয়েন্সি প্রযুক্তি, জ্যামিং ব্যবস্থা, মাইক্রোওয়েভ অস্ত্র এবং উচ্চক্ষমতার লেজারের মতো বিকল্প প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। ড্রোন ও কাউন্টার-ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে পেন্টাগন ২১ বিলিয়ন ডলারের বরাদ্দ চেয়েছে বলেও জানা গেছে।
তবে এসব নতুন প্রযুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার আগেই বড় আকারের ড্রোন-সোয়ার্ম হামলা হলে মার্কিন ঘাঁটিগুলো কতটা তা সামাল দিতে পারবে, সেটিই এখন বড় উদ্বেগ। ইরান ও তার মিত্রদের মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতার কারণে বিষয়টি ওয়াশিংটনের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও আঞ্চলিক অবকাঠামোর জন্য ড্রোন ইতোমধ্যে নতুন ধরনের হুমকি তৈরি করেছে। সামরিক কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, সীমিত সংখ্যক ড্রোন মোকাবেলা করা সম্ভব হলেও একই সময়ে বিপুলসংখ্যক ছোট ড্রোনের আক্রমণ ঠেকানোর সক্ষমতা এখনও অনেক জায়গায় পর্যাপ্ত নয়।
আধুনিক যুদ্ধে বড় ক্ষেপণাস্ত্র বা যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি কম খরচের ড্রোনও গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। বিপুল অর্থের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিপরীতে তুলনামূলক সস্তা অসংখ্য ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হলে প্রচলিত প্রতিরক্ষা কৌশল বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই দুর্বলতার কথা জানিয়েছে কোনো প্রতিপক্ষ নয়; খোদ মার্কিন সামরিক নেতৃত্ব। ফলে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ড্রোন আকাশে উঠলে সেগুলো সময়মতো শনাক্ত ও প্রতিহত করতে না পারলে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক স্থাপনাগুলো কতটা নিরাপদ থাকবে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ