ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দ ব্যবহারের পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। লালকেল্লায় দেওয়া বক্তব্যে মোদি দাবি করেন, সশস্ত্র নকশালবাদের প্রায় অবসান ঘটেছে। তবে এর পাশাপাশি তিনি একটি নতুন ধরনের মতাদর্শিক ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেন।
মোদি বলেন, কিছু মানুষ এখনো ‘দিমাগি নকশাল’ মানসিকতা ধারণ করছে এবং তারা দেশে সহিংসতা ও অস্থিরতা তৈরির সুযোগ খুঁজছে। এ ধরনের ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি তরুণদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর এর তীব্র সমালোচনা করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। দলটির মুখপাত্র সৌরভ দাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোদির এই শব্দচয়নের বিরোধিতা করেন। তার অভিযোগ, সরকারের সমালোচনা বা প্রশ্ন তোলার কারণে শিক্ষিত তরুণদের ‘নকশালী’ কিংবা উগ্রপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করা অপমানজনক। তিনি এটিকে সরকারের অহংকার ও ব্যর্থতার প্রকাশ বলেও মন্তব্য করেন।
সিজেপির এই মুখপাত্রের দাবি, এক যুগ পর দেশের মানুষ ভয় কাটিয়ে স্বাধীনভাবে নিজেদের মত প্রকাশ করতে শুরু করেছে। সরকার বিভাজন তৈরির চেষ্টা করলেও তরুণরা এখন আগের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মোদির বক্তব্যের সমালোচনায় সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলোও। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ একে প্রধানমন্ত্রীর ‘হতাশার লক্ষণ’ বলে মন্তব্য করেছেন। কংগ্রেস, সিপিআই(এম)সহ বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, মোদি এর আগেও ‘আরবান নকশাল’, ‘আন্দোলনজীবী’ ও ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’-এর মতো শব্দ ব্যবহার করে ভিন্নমতাবলম্বীদের নিশানা করেছেন।
বিরোধীদের মতে, ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দটিও সেই ধারাবাহিকতার নতুন সংযোজন। তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, মোদি বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশ করে কথাটি বলেননি। বরং যারা মাওবাদী মতাদর্শে বিশ্বাস করে, সংবিধান প্রত্যাখ্যান করে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন করে, তাদের বোঝাতেই এ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।
এদিকে মোদির বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘দিমাগি নকশাল পার্টি’ নামে একটি নতুন হ্যান্ডেল দ্রুত আলোচনায় এসেছে। রেডইফ ডট কমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর কর্মকাণ্ড অনেকটা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র মতো। সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করে এর আগে ককরোচ জনতা পার্টি অনলাইনে পরিচিতি পেয়েছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দটির ব্যবহার তরুণদের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং ভিন্নমত প্রকাশের প্রবণতাকে সামনে এনেছে। ভারতের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মোদির এই মন্তব্য তাই নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ