রাষ্ট্রীয় সফরে অংশ নিতে রাশিয়া গিয়েছেন মিয়ানমারের সামরিক সরকারের নেতা মিন অং হ্লাইং।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) মস্কোর ক্রেমলিনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে। ১০ এপ্রিল সামরিকপন্থী পার্লামেন্টের মাধ্যমে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি সাবেক সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের পঞ্চম বিদেশ সফর।
জানা গেছে, এ বৈঠকে অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি খাতে কৌশলগত সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়টিও আলোচনায় থাকবে।
সামরিক সরকারের গণমাধ্যম জানিয়েছে, সফরকালে মিন অং হ্লাইং রুশ প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন এবং স্টেট দুমার চেয়ারম্যান ভিয়াচেস্লাভ ভোলোদিনের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। এছাড়া, মিয়ানমার-রাশিয়া অর্থনৈতিক ফোরামেও অংশ নেবেন তিনি।
দ্বিপক্ষীয় আলোচনার কেন্দ্রীয় বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে তানিনথারি অঞ্চলের দাওয়েই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন।
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শোধনাগার
৫ জুন রাশিয়ায় দেশটির রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ইন্টার আরএও এবং লাউংলন ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির মধ্যে একটি চুক্তি হয়। এর প্রেক্ষিতে একটি কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র, তেল শোধনাগার ও গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
পারমাণবিক জ্বালানি খাতে সহযোগিতা
মিয়ানমারে ছোট আকারের মডুলার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ২০২৫ সালে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান রোসাটমের সঙ্গে করা চুক্তিগুলোর অগ্রগতি এ বৈঠকে পর্যালোচনা করা হবে।
মালাক্কা প্রণালির বিকল্প পথ
১৪ আগস্ট থাইল্যান্ড-রাশিয়া যৌথ কমিশনের বৈঠকে থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেটকেও বলেন, দাওয়েই বন্দর উন্নয়ন করা হলে তানিনথারি অঞ্চল থেকে থাইল্যান্ডের চন বুরি প্রদেশ পর্যন্ত একটি কৌশলগত স্থল ও নৌপথ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এতে এ অঞ্চলের মালাক্কা প্রণালিনির্ভরতা কমতে পারে।
এর আগে, ৬ ও ৭ আগস্ট থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গে সরকারি সফরে বৈঠক করেন মিন অং হ্লাইং।
যৌথ সামরিক মহড়া, জ্বালানি উদ্যোগ এবং কৌশলগত অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে রাশিয়া ও মিয়ানমারের রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে। তবে, দাওয়েই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো অস্থির।
উল্লেখ্য, কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন (কেএনইউ) তানিনথারি অঞ্চলের কিছু অংশকে তাদের ব্রিগেড–৪-এর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা হিসেবে বিবেচনা করে। এর ফলে মিয়েইক-দাওয়েই সড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনপথে সামরিক সরকারের বাহিনীর সঙ্গে কারেন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।
সময়ের আলো/মহু