লিঙ্গ পরিবর্তন করে নিজেকে নারী হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন ভারতীয় এক তরুণ। তবে, এটা মেনে নিতে পারেনি তার পরিবার। এ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে নিজের মাকে হত্যা করেন অভিযুক্ত ১৭ বছর বয়সী তরুণ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভারতের লক্ষ্ণৌতে নিজেদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
এ হত্যার রহস্য উদঘাটন হয় অভিযুক্ত তরুণের ডায়েরি থেকে। কর্তৃপক্ষ জানায়, মাকে হত্যায় ওই তরুণ ভারী লোহার যন্ত্রাংশ, মরিচের গুঁড়া ও গরম পানি ব্যবহার করেছে বলে ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার যখন ওই তরুণ তার মায়ের সঙ্গে দেখা করতে আসে, তখন তিনি তাকে অস্ত্রোপচারের পরিবর্তে মেডিকেল ও সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিংয়ের পরামর্শ দেন। এরপর তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। তখন ওই তরুণ তার মায়ের মাথায় একাধিকবার ভারী লোহার যন্ত্রাংশ দিয়ে আঘাত করে। এতে ওই নারী ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে জানায় পুলিশ।
এরপর অভিযুক্ত তরুণ পুলিশকে ফোন দিয়ে জানায় কী ঘটেছে। ফোন পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। ফ্ল্যাটের ভেতর ওই নারীকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তরুণটি তখন সেখানেই অবস্থান করছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় অভিযুক্ত তরুণ দায়স্বীকার করেছে। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, সেটির বিস্তারিত বিবরণও দিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ হত্যায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে।
স্থানীয় এক গণমাধ্যমকে পুলিশ কর্মকর্তা বিবেক কুমার চৌধুরী বলেন, ‘হত্যার আগে ওই তরুণ চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে এ রকম অপরাধে তার বয়সীদের কী ধরনের শাস্তি হয়, পুলিশ কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় এসব বিষয়ে খোঁজখবর করছিল।’
তিনি আরও জানান, এর আগেও ওই তরুণের পরিবার তার জন্য চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করেছিল। কিন্তু ওই তরুণ নিজেকে নারী হিসেবে দাবি করতেন এবং চাইতেন অন্য সবাই যেন তাকে সেভাবেই দেখে।
আরও জানা যায়, ওই তরুণ নিজের বাবা-মাকেও সহ্য করতে পারত না। তার জন্য তার বাবা লক্ষ্ণৗতে আলাদা একটি বাসা ভাড়া করেছিলেন। তার সঙ্গে সেখানে পরিবারের কোনো সদস্যের দেখা করার অনুমতি ছিল না। এরপরও তার মা তার সঙ্গেই থাকতে চাইতেন।
সূত্র : এনডিটিভি
সময়ের আলো/মহু