মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিজেদের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে হামাস। মঙ্গলবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণসহ চুক্তির নির্ধারিত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে তারা প্রস্তুত। তবে এ ক্ষেত্রে ইসরায়েল এখনো মধ্যস্থতাকারীদের কাছে পরিকল্পনাটিতে স্পষ্ট সম্মতি দেয়নি বলে অভিযোগ করেছে হামাস।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম এএফপিকে বলেন, ‘হামাস এই সম্মত প্রক্রিয়ার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি পক্ষ মধ্যস্থতাকারীদের কাছে রোডম্যাপটির বিষয়ে স্পষ্ট অনুমোদন দেয়নি।’
এর আগে সোমবার জেরুজালেমে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্পের দূত জ্যারেড কুশনার। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, এক মাসের মধ্যেই হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অগ্রগতি দেখা যেতে পারে।
কুশনার বলেন, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হামাসের কিছু অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া এবং গাজার সুড়ঙ্গগুলো বন্ধ করার কাজ শুরু হতে পারে।
ইসরায়েলি এক কর্মকর্তা জানান, কুশনার ও নেতানিয়াহু একমত হয়েছেন যে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ যাচাই করবেন একজন মার্কিন জেনারেল। হামাসের অস্ত্র সমর্পণের বিষয়টি ওই মার্কিন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।
ইসরায়েলের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, হামাস পুরো গাজা থেকে নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত সেখানে ইসরায়েলি সেনাদের পুনর্বিন্যাস বা পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হবে না।
গত ৩০ জুলাই হামাস যে রোডম্যাপে সম্মতি জানিয়েছিল, তাতে বলা হয়, অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে হবে। গাজায় পরিস্থিতির উন্নতি হলে এই বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। মার্কিন মেজর জেনারেল জ্যাসপার জেফার্সের নেতৃত্বে বাহিনীটি গঠনের উদ্যোগ চলছে।
গাজা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গঠিত ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংগ্রহ করা প্রতিটি অস্ত্র পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা হবে, যাতে সেগুলো আর ব্যবহার করা না যায়। তবে হামাস পুনরায় অস্ত্র সংগ্রহ বা সহিংসতায় জড়ালে ইসরায়েল আত্মরক্ষার অধিকার বজায় রাখবে বলেও জানান তিনি।
কুশনার ইসরায়েলে যাওয়ার আগে মিসরে হামাসের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেন। আলোচনায় হামাসের নতুন নেতা খলিল আল-হাইয়ার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। বৈঠকে হামাস পরিকল্পনাটির প্রতি তাদের সমর্থনের কথা জানিয়ে নেতানিয়াহুর ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানায়।
তবে গাজা ইস্যুতে ইসরায়েলের কট্টরপন্থি অংশের অবস্থান আরও কঠোর হচ্ছে। সম্প্রতি দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির গাজায় প্রতিরাতে ৩০ থেকে ৪০ জনকে হত্যার পক্ষে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেন।
এদিকে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরায়েলি অভিযানে অন্তত ১ হাজার ২৬৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে গাজা অভিযানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পাঁচ সদস্য নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটি।
সময়ের আলো/কেএইচ