ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান পার্লামেন্ট সদস্য মানুচেহর মোত্তাকি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি দখল করতে পারলেই দেশটির সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ভাগ্য নির্ধারণ করা সম্ভব। তার দাবি, বিশ্বের ‘সবচেয়ে বড় সাম্রাজ্যবাদী সেনাবাহিনীর’ বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ করতে এটিই যথেষ্ট হবে।
সম্প্রতি দেওয়া এক বক্তব্যে মোত্তাকি বলেন, ‘আমরা যদি আমেরিকার একটি ঘাঁটিও দখল করতে পারি, তাহলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাম্রাজ্যবাদী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের ভাগ্য চূড়ান্ত ও শেষ করে দিতে পারব।’ তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ইরানের কট্টরপন্থী রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত মোত্তাকি ২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি তেহরান থেকে নির্বাচিত পার্লামেন্ট সদস্য।
এর আগেও মার্কিন ঘাঁটি দখল করে সেনাদের জিম্মি করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন মোত্তাকি। জুনে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক একটি ঘাঁটিতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০০ মার্কিন সেনাকে আটক করে ইরানে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। জুলাইয়ে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে তিনি ইরাক, কুয়েত বা বাহরাইনের কোনো মার্কিন ঘাঁটি দখল করে প্রায় ২০০ মার্কিন সেনাকে বন্দি করার প্রস্তাব দেন।
মোত্তাকির সর্বশেষ মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়েছে। যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জুনে করা সমঝোতার মেয়াদ শেষ হলেও স্থায়ী কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি দুই দেশ। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে বাহরাইন, কুয়েত, ইরাক ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা রয়েছে। চলমান সংঘাতের মধ্যে এসব স্থাপনা ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। তবে মোত্তাকি যে ধরনের স্থল অভিযান চালিয়ে মার্কিন ঘাঁটি দখলের কথা বলেছেন, এমন কোনো অভিযান এখনো ঘটেনি।
বিশ্লেষকেরা মোত্তাকির এই পরিকল্পনাকে অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবায়নে কঠিন বলে মনে করছেন। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমায় আধিপত্য, গোয়েন্দা সক্ষমতা এবং মিত্রদের দ্রুত সামরিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগের কারণে কোনো মার্কিন ঘাঁটি দখল করা ইরানের জন্য বড় ধরনের সামরিক চ্যালেঞ্জ হবে।
তবে মোত্তাকির বক্তব্য বাস্তব কোনো সামরিক পরিকল্পনার অংশ, নাকি মূলত অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বার্তা— তা এখনো স্পষ্ট নয়। তেহরানও এ ধরনের বড় পরিসরের অভিযান চালানোর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তুতির কথা প্রকাশ্যে জানায়নি।
সময়ের আলো/কেএইচ