আঞ্চলিক পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা পেন্টাগন কর্মকর্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

আঞ্চলিক কোনো সংঘাতে সীমিতভাবে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার হলে তা দ্রুত বড় পরিসরের পারমাণবিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন

2026-08-18T10:35:09+00:00
2026-08-18T10:35:09+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬,
৩ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
আঞ্চলিক পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা পেন্টাগন কর্মকর্তার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩৫ এএম 
সংগৃহীত ছবি
আঞ্চলিক কোনো সংঘাতে সীমিতভাবে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার হলে তা দ্রুত বড় পরিসরের পারমাণবিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এলব্রিজ কলবি। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত কমান্ডের ২০২৬ সালের প্রতিরোধবিষয়ক সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আকস্মিক বড় ধরনের পারমাণবিক হামলার চেয়েও আঞ্চলিক যুদ্ধের মাধ্যমে পারমাণবিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি।

কলবি বলেন, ‘আমি যেটিকে বেশি ভয় করব, তা হলো একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ।’ এমন যুদ্ধে প্রচলিত অস্ত্রের পাশাপাশি কোনো পর্যায়ে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহৃত হলে সংঘাত দ্রুত বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

তার মতে, এমন সংকটে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় অত্যন্ত সীমিত হতে পারে। কোনো পক্ষ প্রতিপক্ষের সামরিক পদক্ষেপকে সর্বাত্মক হামলার প্রস্তুতি হিসেবে ভুল বুঝে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বড় মাত্রায় পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে।

কলবি বলেন, এতে খুব দ্রুত এমন একটি ভয়াবহ চাপের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা কার্যত কারও স্বার্থে থাকবে না।

এ ধরনের পরিস্থিতি ঠেকাতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে বিশ্বাসযোগ্য ও যৌক্তিক বিকল্প থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, এসব বিকল্পের লক্ষ্য হবে প্রতিপক্ষকে নিরস্ত করা, কিন্তু এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি না করা, যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে পারমাণবিক যুদ্ধের দিকে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘এটি প্রেসিডেন্টের বিকল্প কমিয়ে দেওয়া নয়, বরং বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প বাড়ানো।’

কলবি যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতার আধুনিকায়নকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন টিকে থাকার সক্ষমতাসম্পন্ন ও বহুমুখী পারমাণবিক ত্রয়ী, নিশ্চিত দ্বিতীয় হামলা চালানোর সক্ষমতা এবং প্রচলিত সামরিক শক্তির সঙ্গে সমন্বিত একটি প্রতিরোধ কৌশল।

যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন। এসব সাবমেরিন দীর্ঘ সময় পানির নিচে গোপনে অবস্থান করতে পারে। ফলে কোনো প্রতিপক্ষ প্রথম হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সব পারমাণবিক অস্ত্র ধ্বংস করতে পারবে—এমন নিশ্চয়তা পায় না।

কলবি জানান, ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে কোনো পারমাণবিক নীতি পর্যালোচনা করছে না। বরং পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশনা পর্যালোচনা এবং আধুনিকায়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা কোথায় যেতে চাই, তা জানি। এখন বিষয় হলো তা বাস্তবায়ন করা।’

এদিকে চীনের ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নজিরবিহীন কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলেও মন্তব্য করেন কলবি। তার মতে, স্নায়ুযুদ্ধের সময়ের তুলনায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রকে দুটি সম্ভাব্য সমপর্যায়ের পারমাণবিক শক্তি— চীন ও রাশিয়ার— মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

তবে তিন পরাশক্তির পারমাণবিক প্রতিযোগিতার মধ্যেও কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা বজায় রাখার বিষয়ে তিনি ‘সতর্ক আশাবাদী’ বলে জানান। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হওয়ার সুযোগ নেই বলেও সতর্ক করেন তিনি।

কলবি বলেন, শক্ত অবস্থান বজায় রাখার পাশাপাশি পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্মানজনক সংলাপের মাধ্যমে পারমাণবিক ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা যেতে পারে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক ত্রয়ীর তিনটি প্রধান অংশ হলো স্থলভিত্তিক আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং কৌশলগত বোমারু বিমান।


সময়ের আলো/কেএইচ


  বিষয়:   সময়ের আলো  ইরান  যুক্তরাষ্ট্র  ওমান  হামলা  ইসরায়েল 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: