হামাস অস্ত্র সমর্পণ না করা পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপে পরিণত গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার। একই সঙ্গে গাজায় হামলা অব্যাহত রাখলে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার সীমিত করা হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন কুশনার। তবে বৈঠকে গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত রূপরেখা বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি হয়নি। ওই রূপরেখায় হামাস সম্মতি জানিয়েছিল।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কুশনার বলেন, ‘গাজা পুনর্গঠনের পরিকল্পনা আমাদের আছে। কিন্তু নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা গাজা পুনর্গঠনের অনুমতি দেব না।’
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের পর এমন কোনো এলাকায় আবার অর্থ বিনিয়োগ করতে কেউ চাইবে না, যদি সেটি আবার ‘সন্ত্রাসীদের দখলে চলে যায়’ কিংবা ফের ধ্বংস হয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে হামাস অস্ত্র সমর্পণে সম্মত হয়েছিল। এর বিনিময়ে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং উপত্যকায় প্রাণঘাতী হামলা বন্ধের কথা ছিল।
তবে চলতি মাসের শুরুতে ইসরায়েল ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। তেল আবিবের দাবি, গাজা পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো ছাড় দেবে না।
সাক্ষাৎকারে কুশনারও হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের আগে হামাসকে অস্ত্র ত্যাগ করতে হবে—এমন অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানান তিনি।
কুশনার বলেন, ‘কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি দেখা দিলে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারও আমরা সীমিত করব না। তাই এর অর্থ কী, তা আমাদের পরিষ্কার করতে হয়েছে।’
গত বছর ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এসব হামলায় উপত্যকাটিতে অন্তত ১ হাজার ২৬৫ জন নিহত হয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের হামলায় মোট ৭৩ হাজার ৩৯৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
তবে সোমবার এর আগে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলিদের গাজায় হামলা চালানো উচিত নয়। হামাস তাদের অস্ত্র সমর্পণে সম্মত হয়েছে।’
গত তিন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামেও নেতানিয়াহু সরকারের পাশে থেকেছে ওয়াশিংটন।
কুশনার দাবি করেন, গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা ইসরায়েলের জন্যও লাভজনক। তিনি বলেন, আগামী ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে হামাস স্বেচ্ছায় অস্ত্র ও সুড়ঙ্গগুলো হস্তান্তর করলে ইসরায়েলের জন্য এটি হবে বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি দূর করার বিরাট সাফল্য।
তিনি আরও বলেন, হামাস যদি তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করে, তাহলে সবাই বুঝতে পারবে যে তারা শান্তির ব্যাপারে আন্তরিক নয়। সে ক্ষেত্রে ইসরায়েলকে ‘উপযুক্ত উপায়ে কাজ শেষ করার’ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের আরও বেশি সমর্থন দেওয়া হবে।
সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগের অংশ হিসেবে রোববার হামাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিরল এক বৈঠকও করেন কুশনার। তিনি বৈঠকটিকে ‘খুবই সৌহার্দ্যপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করেন। তবে হামাসকে তাদের কথার চেয়ে কাজের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।
কুশনার বলেন, ‘তারা সব সঠিক কথাই বলেছে। কিন্তু এমন একটি সংগঠনকে বিশ্বাস করা খুবই কঠিন, যারা ভয়াবহ নৃশংসতা চালিয়েছে।’
সময়ের আলো/কেএইচ