ভারতের মহারাষ্ট্রে ভূতের ভয়ে হোস্টেল ছাড়লেন ৬০০ ছাত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ভারতে মহারাষ্ট্রের অমরাবতী জেলায় এক বিদ্যালয়ের ৬০০ শিক্ষার্থী ভূতের ভয়ে হোস্টেল ছেড়ে চলে গিয়েছে। ওই সরকারি আবাসিক বিদ্যালয়টিতে চার ছাত্রীর

2026-08-17T22:42:41+00:00
2026-08-17T22:42:41+00:00
 
  সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬,
২ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ভারতের মহারাষ্ট্রে ভূতের ভয়ে হোস্টেল ছাড়লেন ৬০০ ছাত্রী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪২ পিএম 
মহারাষ্ট্রের অমরাবতী জেলায় এক বিদ্যালয়ের ৬০০ শিক্ষার্থী ভূতের ভয়ে হোস্টেল ছেড়ে চলে গিয়েছে। ছবি : এনডিটিভি
ভারতে মহারাষ্ট্রের অমরাবতী জেলায় এক বিদ্যালয়ের ৬০০ শিক্ষার্থী ভূতের ভয়ে হোস্টেল ছেড়ে চলে গিয়েছে। ওই সরকারি আবাসিক বিদ্যালয়টিতে চার ছাত্রীর ওপর ‘ভূতে আছড়’ করেছে এই গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর এ ঘটনা ঘটে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২২ জুলাই এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। ওই চার ছাত্রী হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। তারা বেসামালভাবে কাঁদতে ও হাসতে থাকে। মানসিক চাপের কারণে এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে মনে করছিলেন হোস্টেলের কর্মকর্তারা।

ছাত্রীদের এই অস্বাভাবিক আচরণের পর হোস্টেলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে তাদের ‘ভূতে ধরেছে’। এর কয়েকদিনের মধ্যে ট্রাইবাল ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট (উপজাতি উন্নয়ন বিভাগ) পরিচালিত ওই ‘ভূতুড়ে’ হোস্টেলটি ছেড়ে বাড়িতে চলে যায় প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী।

হোস্টেলের একটি সূত্র জানিয়েছে, কয়েকজন ছাত্রী দাবি করেছিল, তারা নূপুরের শব্দ শুনেছে।

উত্তর মহারাষ্ট্রের আদিবাসী-অধ্যুষিত মেলঘাট অঞ্চলের চিকলদারা তালুকের ডোমা গ্রামের ওই আদিবাসী আবাসিক স্কুলে ৮১০ জন ছেলে ও মেয়ে পড়াশোনা করে। জায়গাটি মুম্বাই থেকে ৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে।

আদিবাসী উন্নয়ন দফতরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি দল ডোমা আবাসিক স্কুল পরিদর্শন করেছে। তিনি বলেন, এই উপসর্গের সঙ্গে অতিপ্রাকৃত কোনো কিছুর সম্পর্ক নেই। মানসিক চাপের কারণে হিস্টিরিয়ার মতো একটি নির্দিষ্ট মানসিক অবস্থার সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে। 


কর্তৃপক্ষের তৈরি একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকজন ছাত্রীর অস্বাভাবিক আচরণের পর এ নিয়ে নানা ধরনের ব্যাখ্যা ছড়িয়ে পড়ে। পরে গ্রামের কয়েকজন নারীর মধ্যেও একই ধরনের মানসিক উপসর্গ দেখা দেয়। 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিশ্বাস করে যে আশ্রম স্কুলের জায়গাটিতে একটি ‘মহুয়া’ গাছ ছিল, যেখানে অশরীরীরা বসবাস করত। স্কুল কর্তৃপক্ষ গাছটি কেটে ফেলায় অশরীরীরা ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীদের বিরক্ত করছে বলে ধারণা করা হয়।

আরেকটি কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, আশ্রম স্কুলের পেছনে তাদের দেবতার একটি মন্দির রয়েছে। স্কুলের নিকাশির নালা মন্দিরটির ওপর দিয়ে চলে যাওয়ায় বা মন্দিরের জায়গায় হস্তক্ষেপ করায় দেবতা অসন্তুষ্ট হয়েছেন।

প্রতিবেদনে তৃতীয় আরেকটি কারণের কথাও বলা হয়েছে। স্কুলের কাছে একটি মাঠে এক আদিবাসী যুবকের মৃত্যু হয়েছিল এবং তার আত্মা ভূতে পরিণত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, কুসংস্কার, ভয়, মানসিক চাপ এবং আত্মা-সংক্রান্ত স্থানীয় বিশ্বাসের কারণেই এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।


সময়ের আলো/ইউএমএইচ



  বিষয়:   ভারত  মহারাষ্ট্র  ভূত  হোস্টেল 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: