ভারতে পাকিস্তানভিত্তিক কথিত শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কের (এসবিএন) বিরুদ্ধে বড় ধরনের সমন্বিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১৪টি রাজ্য থেকে ২৫৩ জনকে আটক করেছে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-সমর্থিত এই নেটওয়ার্কটি ভারতে গ্রেনেড হামলা, আইইডি বিস্ফোরণ, পেট্রলবোমা হামলা ও টার্গেট কিলিংয়ে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ১২ আগস্ট কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা ও বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশের মধ্যে তাৎক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের ভিত্তিতে একযোগে এ অভিযান চালানো হয়। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অভিযানটিকে আন্তসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অমিত শাহ বলেন, ১৪টি রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে সমন্বিত অভিযান চালিয়ে শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ককে ধ্বংস করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে যুক্ত ২০০-র বেশি সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে আইইডি, পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির চিহ্নযুক্ত গ্রেনেড, পিস্তল, গুলি ও সিসিটিভি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানান তিনি।
কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সহযোগী ও সদস্যদের মাধ্যমে নেটওয়ার্কটি পরিচালিত হতো। তাদের কাজ ছিল পুলিশ স্থাপনা, প্রতিরক্ষা স্থাপনা ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলো পর্যবেক্ষণ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা। সংবেদনশীল স্থাপনার কাছে নজরদারি সরঞ্জাম বসানোর জন্যও তাদের অর্থ দেওয়া হতো বলে তদন্তকারীদের ধারণা।
সবচেয়ে বেশি ৬২ জনকে আটক করা হয়েছে উত্তর প্রদেশে। এরপর হরিয়ানায় ৫২, দিল্লিতে ৫১ এবং পাঞ্জাবে ৪৪ জনকে আটক করা হয়েছে। রাজস্থানে ১৫, মহারাষ্ট্রে ৮ ও উত্তরাখণ্ডে ৫ জনকে আটক করা হয়। কর্ণাটক, গুজরাট ও বিহারে ৩ জন করে এবং তেলেঙ্গানা, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু-কাশ্মীর ও কেরালায় ২ জন করে আটক করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দিল্লি ও কর্ণাটকে নতুন করে এফআইআরও করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৮০টির বেশি মামলা এবং ২০০ জনের বেশি গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ), ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, অস্ত্র আইন, মাদকদ্রব্য আইন ও বিস্ফোরক পদার্থ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তদন্তকারীরা উদ্ধার করা অস্ত্র, বিস্ফোরক ও নজরদারি সরঞ্জামকে নেটওয়ার্কটির কথিত আন্তসীমান্ত যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে দেখছেন। পাশাপাশি অর্থ লেনদেন, যোগাযোগের তথ্য এবং স্থানীয় সহযোগীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। নেটওয়ার্কটির সঙ্গে যুক্ত আরও সদস্য ও সহযোগীদের শনাক্ত করে পরবর্তী সময়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
সময়ের আলো/কেএইচ