মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া কমানোর নির্দেশ দেওয়ার পর নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং যুদ্ধকালীন সামরিক নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং।
মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে লি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শক্তিশালী সামরিক জোটের পাশাপাশি নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোও জরুরি। তার মতে, একটি শক্তিশালী জোট ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা পরস্পরকে আরও শক্তিশালী করে।
যুদ্ধ শুরু হলে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর ওপর অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। দেশটির দীর্ঘদিনের দাবি, এই যুদ্ধকালীন অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণ (অপকন) নিজেদের হাতে ফিরিয়ে নেওয়া। লি তাঁর মেয়াদেই এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন।
এর আগে রোববার রাতে ট্রাম্প পেন্টাগনকে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে চলতি সপ্তাহের যৌথ সামরিক মহড়া ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর’ নির্দেশ দেন। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার ‘খুব ভালো সম্পর্ক’ এবং পিয়ংইয়ংয়ের সাম্প্রতিক আচরণকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
সোমবার থেকে শুরু হওয়া উলচি ফ্রিডম শিল্ড নামের ১০ দিনের সামরিক মহড়ায় প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নেওয়ার কথা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের পাশাপাশি জাতিসংঘ কমান্ডের ১৮ সদস্য দেশের মধ্যে ১১টি দেশের সামরিক সদস্যদেরও এতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পর লি দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন কর্মসূচি দ্রুত এগিয়ে নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ যুদ্ধে বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বিত অভিযান পরিচালনায় সক্ষম সামরিক কর্মকর্তাদের তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
১৯৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের পর থেকেই দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। দেশটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ক্যাম্প হামফ্রিসেরও অবস্থানস্থল।
এদিকে, ট্রাম্প দাবি করেছেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তাঁর মহড়া কমানোর নির্দেশের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। ট্রাম্প বলেন, কিমের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ‘খুবই ইতিবাচক’ এবং তাঁর সঙ্গে সম্পর্কের কারণে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা কমেছে।
তবে মার্কিন ও দক্ষিণ কোরীয় সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করে আসছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার হয়ে উত্তর কোরিয়ার সেনাদের অংশগ্রহণের ফলে পিয়ংইয়ং নতুন যুদ্ধকৌশল ও ড্রোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। এ কারণে এবারের মহড়ায় উত্তর কোরিয়ার যুদ্ধঅভিজ্ঞতাকেও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, যৌথ মহড়ার উদ্দেশ্য উত্তর কোরিয়াকে আক্রমণ করা বা কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বাড়ানো নয়। এর মূল লক্ষ্য দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণের নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা।
সময়ের আলো/কেএইচ