রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের অংশগ্রহণকে সরকার সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিতে মূল্যায়ন করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তার দাবি, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে বিরোধী দল সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতার বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদ জানিয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) দেওয়া এক বিবৃতিতে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল রেখে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিরোধী দলের সংবিধান সংস্কার পরিষদে নেওয়া শপথ আর কার্যকর নেই— সরকারের একজন মন্ত্রী এমন বক্তব্য দিয়েছেন। তবে এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য হলে সংসদ সদস্য হিসেবে নেওয়া শপথ কীভাবে বৈধ থাকে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, ২০২৬ সালে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় কোনো সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে শপথের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যুক্তিসংগত নয় বলেও তিনি দাবি করেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়টি বিরোধী দলের কাছে আগে থেকেই স্পষ্ট ছিল বলে উল্লেখ করেন হামিদুর রহমান আযাদ। তার ভাষ্য, সরকারের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতার বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদ জানানো এবং গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন উদ্যোগ হিসেবে তারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল কী হবে, তা বিরোধী দল আগে থেকেই জানত। এরপরও জনগণের সামনে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা এবং গণতন্ত্রের দাবি আরও জোরালো করতেই তারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।
হামিদুর রহমান আযাদের মতে, এই অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও টেকসই করতে সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে জনগণের মধ্যে নতুন করে উপলব্ধি তৈরি হয়েছে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিরোধী দলের অংশগ্রহণকে সংকীর্ণভাবে ব্যাখ্যা না করে এর পেছনের গণতান্ত্রিক বার্তা উপলব্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে পাশ কাটিয়ে কোনো সরকারই দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারে না।
সময়ের আলো/জেডি