ফুলবাড়ী দিবস : কয়লাখনিবিরোধী আন্দোলনের ২০ বছর আজ

দিনাজপুর সংবাদদাতা

সারাদেশ

আজ ২৬ আগস্ট, ফুলবাড়ী ট্র্যাজেডি দিবস। ২০০৬ সালের এই দিনে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লাখনি স্থাপনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে

2026-08-26T15:48:43+00:00
2026-08-26T15:58:12+00:00
 
  বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬,
১১ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
ফুলবাড়ী দিবস : কয়লাখনিবিরোধী আন্দোলনের ২০ বছর আজ
দিনাজপুর সংবাদদাতা
প্রকাশ: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৮ পিএম  আপডেট: ২৬.০৮.২০২৬ ৩:৫৮ পিএম
ফুলবাড়ী আন্দোলনে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ। ছবি : সংগৃহীত
আজ ২৬ আগস্ট, ফুলবাড়ী ট্র্যাজেডি দিবস। ২০০৬ সালের এই দিনে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লাখনি স্থাপনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রক্তাক্ত হয় ফুলবাড়ী। বহুজাতিক কোম্পানি এশিয়া এনার্জির স্থানীয় কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশের পাশাপাশি তৎকালীন বিডিআরের গুলিতে নিহত হন ৩ তরুণ- তরিকুল, আমিন ও সালেকিন। আহত হন ২ শতাধিক নারী-পুরুষ আন্দোলনকারী। 

তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ডাকে দেশের সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষার এই আন্দোলনে সেদিন প্রাণ হারানো ৩ তরুণ আজও ফুলবাড়ীর মানুষের কাছে প্রতিরোধের প্রতীক। আহতদের অনেকেই এখনো দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন। তাদের মধ্যে বিরামপুরের সাহাজপুর গ্রামের প্রদীপ সরকার ইতোমধ্যে মারা গেছেন। ফুলবাড়ী পৌর এলাকার সুজাপুর গ্রামের বাবলু রায় এবং খানপুর গ্রামের শ্রীমান বাস্কে এখনো পঙ্গুত্বের কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ৫টি কয়লাখনির সন্ধান পাওয়া গেছে। এগুলো হলো দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বড়পুকুরিয়া, ফুলবাড়ী, বিরামপুরের দীঘিপাড়া, জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ এবং রংপুরের পীরগঞ্জের খালাশপীর কয়লাখনি। এসব খনির মধ্যে জামালগঞ্জে প্রায় ১ বিলিয়ন টন কয়লা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে, ফুলবাড়ী কয়লাখনিতে মজুত রয়েছে প্রায় ৫৭০ মিলিয়ন টন কয়লা।


ফুলবাড়ী কয়লাখনি প্রকল্পের সূত্রপাত ১৯৯৪ সালে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ওই বছর অস্ট্রেলিয়ার কোম্পানি বিএইচপির সঙ্গে সরকারের চুক্তি হয়। পরবর্তী সময়ে এশিয়া এনার্জির সঙ্গে সরকার ৩০ বছর মেয়াদি একটি চুক্তি করে। প্রস্তাবিত ওই চুক্তি নিয়ে ব্যাপক আপত্তি ওঠে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল, উত্তোলিত কয়লার মাত্র ৬ শতাংশ বাংলাদেশ পাবে এবং ৯৪ শতাংশ পাবে এশিয়া এনার্জি। এর বড় অংশ, প্রায় ৮০ শতাংশ কয়লা বিদেশে রফতানি করার পরিকল্পনা ছিল।

প্রস্তাবিত উন্মুক্ত পদ্ধতির কয়লাখনি বাস্তবায়িত হলে ফুলবাড়ী শহরসহ পার্বতীপুর, বিরামপুর ও নবাবগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে গেলে কৃষি ও পরিবেশে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে- এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা ও পরিবেশবাদীরা। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ ও স্থানান্তরের আশঙ্কা দেখা দেয়। এসব উদ্বেগ থেকেই গড়ে ওঠে ‘ফুলবাড়ী রক্ষা কমিটি’ এবং শুরু হয় ধারাবাহিক আন্দোলন।

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে ছিল ফুলবাড়ীতে এশিয়া এনার্জির সব কার্যক্রম বন্ধ করা এবং সরকারিভাবে প্রতিশ্রুতি দেওয়া যে, ফুলবাড়ীতে কোনো উন্মুক্ত পদ্ধতির কয়লাখনি করা হবে না। একপর্যায়ে ফুলবাড়ী রক্ষা কমিটির আন্দোলন কিছুটা স্থিমিত হয়ে পড়লেও, তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি আন্দোলনকে আরও জোরালো করে। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, পেশাজীবী, ছাত্র-যুবকসহ নারী-পুরুষ অংশ নেন।


২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট জাতীয় কমিটির ডাকে এশিয়া এনার্জির স্থানীয় কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে জাতীয় কমিটির তৎকালীন আহ্বায়ক প্রকৌশলী মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এবং সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন। সেদিন লক্ষাধিক মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে আন্দোলনে যোগ দেন। জেলার ঢাকা মোড় থেকে মিছিল নিয়ে এশিয়া এনার্জির কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার পথে ছোট যমুনা নদীর পূর্ব প্রান্তে পুলিশ ও বিডিআর আন্দোলনকারীদের বাধা দেয়।

পরে নিমতলা মোড়ে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে ঘেরাও কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। এরই একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও বিডিআর ব্যাপক লাঠিচার্জ করে এবং গুলি চালায়। গুলিতে তরিকুল, আমিন ও সালেকিন নিহত হন। আহত হন ২ শতাধিক মানুষ। এই ঘটনার পর ফুলবাড়ীসহ পুরো খনি এলাকা বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে।

পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ৩০ আগস্ট তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সঙ্গে আন্দোলনের নেতাদের আলোচনা হয়। ওই আলোচনায় আন্দোলনকারীদের ৬ দফা দাবি মেনে নেওয়া হয়। দাবিগুলোর অন্যতম ছিল এশিয়া এনার্জিকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা এবং দেশের কোথাও উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লাখনি বাস্তবায়ন না করা।

ফুলবাড়ী কয়লাখনি বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা এবং সাবেক পৌর মেয়র মুরতুজা সরকার মানিক এক গণমাধ্যমে বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত ৬ দফা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আন্দোলনকারীদের নামে কোনো মামলা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু এশিয়া এনার্জি একাধিক মামলা দিয়ে আন্দোলনকারী নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে। ফুলবাড়ী কয়লাখনি নিয়ে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নিলে আগের চেয়েও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’

সময়ের আলো/মহু


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: