কাগজে-কলমে ডিজিটালাইজেশনের বড় বড় বুলি আওড়ানো হলেও বাস্তবে সফটওয়্যারের মারপ্যাঁচে আটকে গেছে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সাধারণ মানুষের ভূমিসেবা। সার্ভারে ত্রুটির কারণে দীর্ঘদিন ধরে নামজারি ও জমির অন্যান্য সেবা বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ভুক্তভোগী ভূমি মালিকরা।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১১৫টি মৌজার মধ্যে ১০৯ নম্বর কালুপুকুর মৌজার সমস্ত তথ্য ই-নামজারি সিস্টেম থেকে পুরোপুরি উধাও হয়ে গেছে। অন্যদিকে বালিয়ান, ধরঞ্জয় গাড়ি ও পালশার দুটি মৌজাসহ অন্তত ৭ থেকে ১০টি মৌজায় জমির দাগ ও খতিয়ান মিললেও সার্ভারে নেই ‘আরএস’রেকর্ডের অপশন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই অদৃশ্য কারিগরি জটিলতার পেছনে চাপা পড়েছে শত শত সাধারণ মানুষের জীবন-মরণ সমস্যা। সফটওয়্যারের এই অচলাবস্থার এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো সমাধান মেলেনি।
কালুপুকুর মৌজার জমি মালিক আমতাজ উদ্দিন তালুকদার জটিল হৃদ্রোগ ও কিডনিতে আক্রান্ত। চিকিৎসার ব্যয় মেলাতে নিজের জমি বিক্রি করতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, অনলাইনে ওই মৌজার কোনো অস্তিত্বই নেই। গত এক মাস ধরে ভূমি অফিসে ঘুরেও তিনি কোনো সমাধান পাননি।
একই দুর্দশার শিকার বালিয়ান মৌজার রেহেনা আক্তার চৌধুরী। স্বামীহারা এই নারী সন্তানদের পড়ালেখার খরচ জোগাতে জমি বিক্রির চূড়ান্ত দরদাম পাকা করেও সার্ভারে ‘আরএস’ অপশন না থাকায় রেজিস্ট্রি টেবিলে এসেই আটকে গেছেন। কোনো সুরাহা না পেয়ে চরম বিপদগ্রস্ত হয়ে দিন কাটাচ্ছেন তিনি ও তার পরিবার। এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি মৌজার একাধিক জমির মালিক দীর্ঘদিন ধরে নামজারি করতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় ভূমি অফিসের নিষ্ক্রিয়তা নাকি সফটওয়্যারে সমস্যা— তা জানতে চাইলে ঘোড়াঘাটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল আল মামুন কাওসার শেখ বলেন, এই সমস্যা স্থানীয় অফিসের নয়, বরং এটি পুরোপুরি কেন্দ্রীয় সফটওয়্যারের প্রযুক্তিগত ত্রুটি। সফটওয়্যারের কমপ্লেইন সেলসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুত এর সমাধান মিলবে।
তবে ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের প্রশ্ন— প্রযুক্তি অচল হলে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নাগরিক সেবা এভাবে বন্ধ থাকবে কেন? ই-সিস্টেমে গোলযোগ দেখা দিলে জরুরি প্রয়োজনে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে নামজারি নিষ্পত্তির বিকল্প ব্যবস্থা থাকা উচিত। তা না হলে এই ডিজিটাইজেশনের মূল উদ্দেশ্যই পুরোপুরি ভেস্তে যাবে।
সময়ের আলো/জোই