এমনিতেই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়; এরমধ্যে সংসদের বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা সরকার দলের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার দাবিতে ঢাকায় মহাসমাবেশসহ চার বিভাগে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এসব কর্মসূচি পরিস্থিতি আরও বেগতিক করতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্যরা। সরকার গঠনের ৬ মাসের মাথায় এত দ্রুত কেন জামায়াতে ইসলামী লং মার্চের কর্মসূচিতে যাচ্ছে; তা নিয়ে প্রশ্ন বিএনপির সংসদ সদস্যদের মনে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে এ সভা শুরু হয়ে সোয়া ১টায় শেষ হয়। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভায় দলের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সংসদ সদস্যরা মন্ত্রীদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। পরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা এসব প্রশ্নের জবাব দেন। সভা শেষে বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র মন্ত্রী ও এমপি সময়ের আলোকে এসব তথ্য জানান। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছাড়াও চলমান সার সংকট ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
একজন মন্ত্রী সময়ের আলোকে বলেন, এমনিতেই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুখকর নয় এরমধ্যে জামায়াতে ইসলামী লংমার্চ ডাকল। এটা নিশ্চিতভাবে পরিস্থিতি খারাপ করবে। জায়গায় জায়গায় বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় বেশি হট্টগোল হবে। এই কর্মসূচি ঘিরে পরিস্থিতি যাতে ঘোলাটে না হয় সেদিকে নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার জায়গা থেকে সার্বিক দিক বিবেচনায় ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের পথে লংমার্চ দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুরে, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনায় এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটে লংমার্চ হবে। আর ঢাকা মহাসমাবেশ হবে আগামী ১৪ নভেম্বর।
সভায় মব কালচার নিয়েও সতর্ক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় উপস্থিত থাকা এবং সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি তুলে ধরলেন সংসদ সদস্যরা
জানা গেছে, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বর্তমান চিত্র তুলে ধরেন সংসদ সদস্যরা। জবাবে বাস্তবতা ও সরকারের সক্ষমতা তুলে ধরে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সংসদ সদস্যদের ব্রিফ করেন। লোডশেডিংয়ের ক্ষেত্রে গ্রাম ও শহরের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি। এই সভায় বিদ্যুৎমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু অনুপস্থিত ছিলেন। সংসদে অনুপস্থিতির কারণ জানতে মন্ত্রীকে টেলিফোন করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। সংসদে বিদ্যুৎমন্ত্রীর কক্ষে গিয়ে সহকারীদের কাছ থেকে জানা যায়, মন্ত্রী অসুস্থ থাকায় সংসদে আসতে পারেননি।
এ ছাড়া কৃষিমন্ত্রী না থাকায় তার পরিবর্তে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন সার পরিস্থিতি নিয়ে সংসদ সদস্যদের অবহিত করেন। জাহিদ হোসেন বলেন, দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। সার সরবরাহ ও বিতরণ যাতে যথাযথভাবে হয়, সে বিষয়ে সরকার সজাগ রয়েছে। একই সঙ্গে কেউ যাতে সার নিয়ে কোনো ধরনের ‘স্যাবোটাজ’ করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) আহ্বায়ক করে উপজেলাভিত্তিক কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি। সভায় বলা হয়, অনেক ইউনিয়নে সারের ডিলাররা পলাতক। এসব এলাকায় নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে।
সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমাপনী বক্তব্য দেন। তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে সব সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীকে নিজ নিজ এলাকায় উপস্থিত থেকে কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে যেসব অপপ্রচার বা প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার এবং এর জবাব দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ ছাড়া আসন্ন স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থীকে জয়ী করতে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা রাখার নির্দেশও দেন সংসদ নেতা। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদে দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে এবং ‘সৎ ও যোগ্য’ প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা