গুম একটি পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ থমকে দেয় : প্রধানমন্ত্রী

সময়ের আলো ডেস্ক

জাতীয়

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জানিয়েছেন।এক

2026-08-30T12:21:23+00:00
2026-08-30T12:21:23+00:00
 
  রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬,
১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
গুম একটি পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ থমকে দেয় : প্রধানমন্ত্রী
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২১ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জানিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে গুম বা ‘এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স’ সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধগুলোর একটি। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটে। অনেক সময় রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সরকারবিরোধী আন্দোলন কিংবা ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতাদের দমনে এ পথ বেছে নেয়।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমনে গুম-অপহরণের পথ বেছে নিয়েছিল। গুম ও অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর আটকে রাখতে গোপন বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল। এসব বন্দিশালা জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পায়।

দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থার হিসাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে ওই সরকার বিভিন্ন সময়ে কমপক্ষে সাত শতাধিক মানুষকে গুম করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স বন্ধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করা হয়, বিলগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে কেউ গুম কিংবা অপহরণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ করার সাহস পাবে না।

তিনি বলেন, গুম কিংবা অপহরণ শুধু একটি সংখ্যা নয় বা একজন ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া নয়; এর সঙ্গে একটি পরিবারের স্বপ্ন, সাধ ও আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু জড়িয়ে থাকে। গুম হওয়া ব্যক্তির অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের দিন কাটে অনিশ্চয়তার মধ্যে। সেখানে স্বাভাবিক শোক পালনেরও সুযোগ থাকে না।

ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর গুম হওয়া কয়েকজন ফিরে এসেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি।

বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলা হয়, সেখানে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং এ ধরনের অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্র বা সরকারের মাধ্যমে গুম ও এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য— ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’।

বিবৃতির শেষাংশে গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানানো হয়।


সময়ের আলো/কেএইচ


  বিষয়:   সময়ের আলো  প্রধানমন্ত্রী  গুম 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: