আটলান্টিক মহাসাগরে ২৭ দিন ধরে ভাসতে থাকা একটি নৌযান থেকে ৪৪ জন অভিবাসীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নৌযানটিতে থাকা ৮০ জনের বেশি অভিবাসী মারা গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত নৌযানটিতে পাঁচটি মরদেহ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার স্পেনের সামুদ্রিক উদ্ধারকারী দল গ্রান ক্যানারিয়া দ্বীপের আরগুইনেগুইন শহরের প্রায় ৬৫ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে নৌযানটির সন্ধান পায়। জীবিত উদ্ধার হওয়া ৪৪ জনই সাব-সাহারান আফ্রিকার পুরুষ।
মানবাধিকারকর্মী ও স্প্যানিশ দাতব্য সংস্থা ‘কামিনান্দো ফ্রন্তেরাস’-এর প্রতিষ্ঠাতা হেলেনা মালেনো গারসন জানিয়েছেন, এই যাত্রায় অন্তত ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ধারণা করা হচ্ছে, নৌযানটি পশ্চিম আফ্রিকার গাম্বিয়া থেকে আগস্টের শুরুতে যাত্রা করে। সে সময় এতে প্রায় ১২৭ জন যাত্রী ছিলেন। তবে উদ্ধারের সময় নৌযানটিতে মোট কতজন ছিলেন, তা নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের কারণে নৌযানটিতে পাওয়া পাঁচটি মরদেহ তীরে আনা সম্ভব হয়নি। ঘণ্টায় প্রায় ২০ নটিক্যাল মাইল বেগে বাতাস ও আড়াই মিটার উচ্চতার ঢেউয়ের মধ্যে উদ্ধার অভিযান চালাতে হয়। অনেক মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
জীবিত উদ্ধার হওয়া তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের হেলিকপ্টারে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বাকিদের সমুদ্রপথে গ্রান ক্যানারিয়ায় নেওয়া হয়।
ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ সরকারের প্রধান ফার্নান্দো ক্লাভিহো এক্সে বলেন, মানুষের জীবনহানি অব্যাহত থাকা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আটলান্টিক মহাসাগরকে মৃত্যুফাঁদ হিসেবে মেনে নেওয়ার মতো পরিস্থিতির সঙ্গে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ অভ্যস্ত হয়ে যেতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পশ্চিম আফ্রিকা থেকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের এই সমুদ্রপথ বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী অভিবাসন রুট হিসেবে পরিচিত।
সময়ের আলো/এমকে