স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন সমন্বিত নির্বাচন আচরণবিধিমালা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। এবার সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হবে নির্দলীয়। ফলে নতুন এই নীতিমালায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ও পোস্টারের ব্যবহার পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে।
পোস্টার নিষিদ্ধ হলেও প্রার্থীরা নির্দিষ্ট পরিমাপে সাদা-কালো ব্যানার, ফেস্টুন, হ্যান্ডবিল, লিফলেট এবং নিয়ন্ত্রিত পরিসরে বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন। বিলবোর্ডের সর্বোচ্চ আয়তন হবে ১৬ বাই ৯ ফুট।
সিটি ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রতি ওয়ার্ডে ১টি, উপজেলায় সর্বোচ্চ ২০টি এবং জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতি উপজেলায় ১টি করে বিলবোর্ড বসানো যাবে। প্রচারসামগ্রীতে পলিথিন ও পিভিসি বস্তুর ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং প্রার্থী ছাড়া অন্য কারও ছবি ব্যবহার করা যাবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের সুযোগ থাকলেও প্রার্থীর অনলাইন অ্যাকাউন্ট তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জমা দিতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে ভুয়া তথ্য ও ঘৃণাত্মক বক্তব্য ছড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভোটারদের প্রভাবিত করতে এনআইডি বা এমএফএস নম্বর সংগ্রহ করা যাবে না।
প্রচারণার ক্ষেত্রে মাইক ব্যবহারের সময় বদলে দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে মাইকিং বন্ধ থাকবে। মনোনয়নপত্র জমাকালে প্রার্থীর সাথে সর্বোচ্চ পাঁচজন থাকতে পারবেন। মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও মেয়রের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।
আচরণবিধি ভঙ্গ করলে ১০ হাজার টাকার জায়গায় সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অপরাধ গুরুতর হলে কমিশন সরাসরি প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে।
সময়ের আলো/এমকে