রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ পেতে দেরি হচ্ছে কেন?

সময়ের আলো ডেস্ক

জাতীয়

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর একটি পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। দুই ইউনিটে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা নিয়ে নির্মিত

2026-09-09T22:40:23+00:00
2026-09-09T22:52:59+00:00
 
  বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয়
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ পেতে দেরি হচ্ছে কেন?
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম  আপডেট: ০৯.০৯.২০২৬ ১০:৫২ পিএম
পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর একটি পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। দুই ইউনিটে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা নিয়ে নির্মিত এই প্রকল্পকে দেশের দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাশিয়ার কারিগরি সহায়তা ও ঋণে নির্মিত প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটে এ বছরের এপ্রিল মাসে পারমাণবিক জ্বালানি লোড করা হয়। এরপর আশা করা হয়েছিল, সেপ্টেম্বরের দিকে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে।

কিন্তু সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী এখনই বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। বরং প্রথম ইউনিটের পরীক্ষামূলক উৎপাদন কবে শুরু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে সামনে এসেছে চুল্লির নিরাপত্তাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রের ত্রুটি।

Advertisement
সমস্যা কোথায়?

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষার সময় দুটি পাইলট-অপারেটেড রিলিফ ভালভ বা পিওআরভি প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করছে না। এই ভালভগুলো পারমাণবিক চুল্লির নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

চুল্লির ভেতরে নির্দিষ্ট মাত্রায় তাপমাত্রা ও চাপ বজায় রাখতে হয়। কোনো কারণে চাপ স্বাভাবিক সীমার চেয়ে বেড়ে গেলে তা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য নিরাপত্তা ভালভ স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে অতিরিক্ত চাপ বা বাষ্প বের করে দেওয়ার কথা। আবার চাপ নিরাপদ পর্যায়ে নেমে এলে ভালভ বন্ধ হয়ে যায়।

কিন্তু রূপপুরে পরীক্ষার সময় দেখা যাচ্ছে, নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও চাপের পর্যায়ে পৌঁছানোর পরও দুটি ভালভ প্রত্যাশামতো খুলছে না। মেরামতের চেষ্টা করা হলেও পরীক্ষায় সেগুলো পুরোপুরি কার্যকর প্রমাণিত হয়নি।

এই কারণেই কেন্দ্রটির কমিশনিং বা চালু করার প্রক্রিয়া আপাতত বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

নিরাপত্তা ভালভের ত্রুটি এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?

একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কোনো সাধারণ যন্ত্রপাতির মতো নয়। একটি ছোট ত্রুটিও কেন্দ্রের পরবর্তী পরীক্ষার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

রূপপুরের চুল্লির ভেতরে পারমাণবিক বিক্রিয়ার ফলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। সেই তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পানি ও বাষ্পের একটি নির্দিষ্ট চাপ-তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়। চাপ অতিরিক্ত বেড়ে গেলে চুল্লির বিভিন্ন অংশের ওপর অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য প্রেসার রিলিফ সিস্টেম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই নিরাপত্তা ভালভ নির্ধারিত পরিস্থিতিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করছে কি না, সেটি নিশ্চিত না করে পরবর্তী পর্যায়ের পরীক্ষা চালানো নিরাপদ নয়।

অর্থাৎ এখানে বিষয়টি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন বিলম্বিত হওয়ার নয়; এর সঙ্গে কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতার প্রশ্ন সরাসরি জড়িত।

একটি ভালভ নষ্ট হলে কি পুরো কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়?

রূপপুরের নকশায় একাধিক নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে কোনো একটি যন্ত্রে সমস্যা দেখা দিলেই সঙ্গে সঙ্গে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটবে—এমনটা বলা ঠিক নয়।

ভিভিআর-১২০০ ধরনের রিঅ্যাক্টর ডিজাইনে একাধিক সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। একটি ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ না করলে অন্য ব্যবস্থাগুলো অতিরিক্ত সুরক্ষা দেওয়ার জন্য তৈরি। তারপরও প্রতিটি নিরাপত্তা উপাদানকে আলাদাভাবে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হয়।

কারণ পারমাণবিক কেন্দ্র চালুর ক্ষেত্রে ‘বিকল্প ব্যবস্থা আছে’, এটুকু যথেষ্ট নয়। নির্ধারিত নকশা ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান অনুযায়ী প্রতিটি ব্যবস্থা কাজ করছে কি না, তা প্রমাণ করতে হয়।

এখন কী করা হচ্ছে?

ভালভের সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের পাশাপাশি রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরাও কাজ করছেন। প্রকল্পের মূল প্রযুক্তি সরবরাহকারী রোসাটমের প্রধান ডিজাইনারও বিষয়টি পর্যালোচনা করতে রূপপুরে এসেছেন বলে জানানো হয়েছে।

প্রথমে ত্রুটিপূর্ণ ভালভ মেরামত করে সচল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদি মেরামতের পরও তা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়, তাহলে নতুন যন্ত্র তৈরি করে এনে প্রতিস্থাপন করতে হতে পারে।

এখানেই সময়ের একটি বড় অনিশ্চয়তা রয়েছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত এসব যন্ত্র সাধারণ বাজার থেকে কিনে এনে দ্রুত পরিবর্তন করা যায় না। এগুলো নির্দিষ্ট নকশা ও মানদণ্ড অনুযায়ী তৈরি করতে হয়। ফলে নতুন যন্ত্র প্রয়োজন হলে উৎপাদন, পরিবহন, স্থাপন এবং পুনরায় পরীক্ষা, সব মিলিয়ে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।


ভালভ ঠিক হলেই কি সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে?

না, এটিই রূপপুরের বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেকে মনে করতে পারেন, ভালভের সমস্যা সমাধান হলেই রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়া শুরু হবে। বাস্তবে বিষয়টি অনেক বেশি জটিল। 

জ্বালানি লোডিংয়ের পর একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ধাপে ধাপে বিভিন্ন পরীক্ষা দিতে হয়। এর মধ্যে চুল্লির নিয়ন্ত্রিতভাবে ক্রিটিক্যাল অবস্থায় নেওয়া, বিভিন্ন নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই, টারবাইন ও জেনারেটরের পরীক্ষা এবং জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় করে উৎপাদন পরীক্ষা—সবই রয়েছে।

এমনকি কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে কেন্দ্রের নিরাপত্তাব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ করে কি না, সেটিও পরীক্ষা করতে হয়।

অর্থাৎ একটি পারমাণবিক কেন্দ্র চালু করা অনেকগুলো পরীক্ষার ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। একটি ধাপ সফলভাবে শেষ হওয়ার পরই পরবর্তী ধাপে যাওয়া যায়।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনও প্রয়োজন

রূপপুরের প্রকৌশলীরা পরীক্ষা সম্পন্ন করলেই কেন্দ্রটি বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে পারবে না। বাংলাদেশের পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যালোচনা করতে হবে।

কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পরীক্ষার ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা যাচাই করার পর নিয়ন্ত্রক সংস্থা সন্তুষ্ট হলে পরবর্তী ধাপের অনুমোদন দেবে।

প্রয়োজনে কিছু পরীক্ষার ফলাফল স্বাধীন বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে যাচাই করারও সুযোগ থাকে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো না করে কেন্দ্রটির নিরাপত্তা সম্পর্কে যথেষ্ট নিশ্চয়তা পাওয়া।

তাহলে সেপ্টেম্বরেই কেন বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না?

এপ্রিল মাসে জ্বালানি লোডিং একটি বড় অগ্রগতি হলেও সেটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের শেষ ধাপ নয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে অনেক পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হয়।

বর্তমানে নিরাপত্তা ভালভের ত্রুটি সেই পরীক্ষার ধারাবাহিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বাধা তৈরি করেছে। যতক্ষণ পর্যন্ত ভালভ নির্ধারিত পরীক্ষায় সফল না হচ্ছে, ততক্ষণ পরবর্তী ধাপে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তার ওপর ভালভের সমস্যা সমাধানের পরও আরও অনেক পরীক্ষা বাকি থাকবে। ফলে সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

নির্দিষ্ট তারিখ কবে?

সরকারের পক্ষ থেকেও এখন নির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষণা করা হচ্ছে না। এর কারণ হলো, পরবর্তী প্রতিটি ধাপের ফলাফল আগেভাগে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

ধরা যাক, ভালভের সমস্যা দ্রুত সমাধান হয়ে গেল। এরপর নতুন কোনো পরীক্ষায় আরেকটি ত্রুটি ধরা পড়তে পারে। আবার কোনো পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক না হলে সেটি পুনরায় করতে হতে পারে।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে এই অনিশ্চয়তাকে স্বাভাবিকভাবেই বিবেচনা করা হয়। কারণ নিরাপত্তার প্রশ্নে নির্দিষ্ট সময়সীমা পূরণ করার জন্য কোনো পরীক্ষা বাদ দেওয়া বা তাড়াহুড়ো করার সুযোগ নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি লোডিং থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে প্রায় এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে প্রকৃত সময় নির্ভর করবে প্রতিটি পরীক্ষার ফলাফল এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের ওপর।

রূপপুর প্রকল্প 

রূপপুর থেকে বিদ্যুৎ পাওয়ার সময়সূচি এর আগেও কয়েকবার পিছিয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ইউনিট ২০২৩ সালের দিকে উৎপাদনে যাওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারি প্রকল্পের কাজকে প্রভাবিত করে। পরবর্তীতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক পরিবহন, সরবরাহ ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক লেনদেনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়। এসব কারণেও প্রকল্পের বাস্তবায়ন পিছিয়েছে।

এ ছাড়া ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রকল্প বাস্তবায়নে যথেষ্ট মনোযোগ দেওয়া হয়নি—এমন অভিযোগ ও সমালোচনাও রয়েছে।

তবে বর্তমানে প্রথম ইউনিটের পরীক্ষামূলক উৎপাদনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে তাৎক্ষণিক সমস্যা হলো নিরাপত্তা ভালভের ত্রুটি।

রাশিয়ার ওপর কতটা নির্ভরশীল? 

রূপপুর প্রকল্পের প্রযুক্তি, নির্মাণ এবং কমিশনিংয়ের সঙ্গে রাশিয়ার রোসাটম সরাসরি যুক্ত। ফলে কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধানেও রুশ বিশেষজ্ঞদের ভূমিকা রয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কেন্দ্রটি নির্ধারিতভাবে চালু করে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার দায়িত্ব রাশিয়ার। তাই প্রয়োজন হলে যন্ত্র মেরামত, পরিবর্তন বা নতুন যন্ত্র সরবরাহ, এসব বিষয় প্রকল্প বাস্তবায়নকারী পক্ষকেই সমাধান করতে হবে।

তবে বিশেষজ্ঞদের একটি প্রশ্ন হলো, কোনো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রে সমস্যা দেখা দিলে ঠিক কত সময়ের মধ্যে তা সমাধান করা হবে এবং বিলম্বের জন্য ঠিকাদারের দায় বা ক্ষতিপূরণের বিষয়টি কীভাবে নির্ধারিত হবে, এসব বিষয় চুক্তিতে কতটা স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।

সাধারণ মানুষের কাছে এর অর্থ কী? 

বাংলাদেশ বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রূপপুর থেকে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে বিদ্যুৎ সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে।

কিন্তু পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে দ্রুত বিদ্যুৎ পাওয়ার চেয়ে নিরাপত্তা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভুল সিদ্ধান্তের পরিণতি সাধারণ বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় অনেক বেশি গুরুতর হতে পারে।

তাই রূপপুর থেকে বিদ্যুৎ পেতে কয়েক মাস বেশি সময় লাগলেও প্রতিটি নিরাপত্তা পরীক্ষা সঠিকভাবে সম্পন্ন করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সবচেয়ে বড় সমস্যা কী? 

রূপপুর প্রকল্প নিয়ে মানুষের আগ্রহ ও উদ্বেগের একটি কারণ হলো নিয়মিত ও বিস্তারিত তথ্যের অভাব। প্রকল্পের অগ্রগতি, পরীক্ষার ফলাফল কিংবা কোনো যান্ত্রিক সমস্যা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য নিয়মিত প্রকাশ না হলে গুজব ও নানা ধরনের প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পের জন্য একটি কার্যকর মিডিয়া সেল বা নিয়মিত তথ্য প্রকাশের ব্যবস্থা থাকলে সাধারণ মানুষও বুঝতে পারত, প্রকল্পটি ঠিক কোন পর্যায়ে আছে এবং কেন সময় লাগছে।

বিশেষ করে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো সংবেদনশীল প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জনসাধারণের আস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শেষ কথা

রূপপুর থেকে বিদ্যুৎ পেতে বর্তমান বিলম্বের প্রধান কারণ হলো প্রথম ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষায় সমস্যা পাওয়া। এটি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী কমিশনিং ধাপে যাওয়া সম্ভব নয়।

তবে ভালভের সমস্যা সমাধান হলেও সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে না। এরপর আরও অনেক জটিল পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই, গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

তাই এখনই নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন যে রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে ঠিক কোন মাসে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ আসবে। সবচেয়ে বাস্তবসম্মত বিষয় হলো, প্রতিটি ধাপ সফলভাবে শেষ হলেই পরবর্তী ধাপে এগোনো হবে।

রূপপুর বাংলাদেশের জন্য বড় একটি বিদ্যুৎ প্রকল্প। কিন্তু এর সাফল্য শুধু কত দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলো, তার ওপর নির্ভর করে না। প্রকল্পটি কতটা নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে, সেটিই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা 

সময়ের আলো/ইউএমএইচ

  বিষয়:   রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: