প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, উত্তরাধিকার সূত্রে ফ্যাসিবাদী শাসনামলের সমস্যাকে আমরা অজুহাত হিসেবেও দাঁড় করাতে চাই না। বরং চলমান সমস্যাগুলোর ব্যাপারে আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই এবং সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে চাই। লংমার্চ করে গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা গেলে বিএনপি সবার আগে লংমার্চ করত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় বিরোধীদলের উদ্দেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুতের জন্য সমগ্র দেশের মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে আমরা আমাদের বিরোধীদলীয় বন্ধুদের কাছে সহযোগিতা আশা করেছিলাম। অথচ আমরা দেখলাম তারা একটি বিশাল গাড়ির লংমার্চ আয়োজন করেছেন।
তিনি বলেন, বিভিন্ন মানুষ একটি কথা বলে যে, জনগণকে অযথা উত্তেজিত করে অন্য কিছু করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, গাড়ির লংমার্চ করে যদি গ্যাস বা বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করাই যেত, তাহলে আমরাই সবার আগে লংমার্চের আয়োজন করতাম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ আমাদের ভোট দিয়ে পাঠিয়েছে সংসদে। আমি মনে করি এই সংসদের প্রতিটি সদস্য, বিরোধীদলের হোক কিংবা সরকারি দলের— আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব সঠিক চিত্র বা বাস্তব পরিস্থিতি জনগণের সামনে তুলে ধরা।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ফ্যাসিবাদী শাসনামলের সমস্যাগুলোকে সরকার অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চায় না। বরং এসব সমস্যা সমাধানে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনজীবনে শান্তি, স্বস্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলার কথা বলে অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ানো এবং ব্যাংকের লেনদেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছিল।
কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় কুইক রেন্টাল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এর মাধ্যমে কিছু মানুষকে সুবিধা দিতে গিয়ে রাষ্ট্রকে ঋণগ্রস্ত ও আর্থিকভাবে দুর্বল করা হয়েছে। দেশকে বিপর্যয় পরিস্থিতি থেকে বারবার বিএনপি টেনে তুলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলকে সঙ্গে নিয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চায় সরকার। সংসদের কাছে গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রত্যাশা অনেক।
সময়ের আলো/জেডি