ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া, মোবাইল ফোন ও ই-মেইল এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। প্রযুক্তি জীবনকে সহজ করেছে, কিন্তু একই সঙ্গে বেড়েছে ডিজিটাল প্রতারণার ঝুঁকি। এর মধ্যে অন্যতম ভয়ংকর কৌশল হলো ‘ফিশিং’। প্রতারকরা ভুয়া ই-মেইল, এসএমএস, ফোনকল কিংবা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড, ওটিপি, ব্যাংকিং তথ্য বা ব্যক্তিগত ডেটা হাতিয়ে নেয়।
ফিশিংয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো প্রতারণার কৌশল। হ্যাকাররা আসল প্রতিষ্ঠানের মতো দেখতে ই-মেইল বা মেসেজ পাঠায়।
যেমন ‘আপনার অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত হয়েছে’ কিংবা ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই না করলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে’। এমন বার্তার সঙ্গে দেওয়া হয় ভুয়া লিংক। আতঙ্ক বা তাড়াহুড়োর কারণে ব্যবহারকারী লিংকে ক্লিক করে পাসওয়ার্ড, ওটিপি বা অন্যান্য তথ্য দিয়ে ফেললেই বিপদ।
এসএমএস বা হোয়াটসঅ্যাপেও আসতে পারে ‘আপনি লটারি জিতেছেন’, ‘আপনার মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট আপডেট করুন’ কিংবা ‘আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়েছে’ ধরনের বার্তা। কখনো প্রতারকরা ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়েও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে।
ফিশিংয়ের রয়েছে বিভিন্ন ধরন। নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত আক্রমণকে স্পিয়ার ফিশিং বলা হয়। আর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে করা আক্রমণকে বলা হয় হোয়েলিং। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং ডিপফেক প্রযুক্তির কারণে এসব প্রতারণা অনেক বেশি দেখা যায়। এ ধরনের আক্রমণে অনেক সময় নতুন করে পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করার প্রয়োজন হয় না।
ফিশিং থেকে যেভাবে নিরাপদ থাকবেন
শক্তিশালী ও আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু রাখুন। অপরিচিত লিংকে ক্লিক করবেন না এবং ওটিপি, পিন বা পাসওয়ার্ড কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না। ই-মেইলের প্রেরকের ঠিকানা ও ডোমেইন ভালোভাবে যাচাই করুন। অপ্রয়োজনীয় ব্রাউজার এক্সটেনশন বা অ্যাপ ইনস্টল এড়িয়ে চলুন এবং সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট রাখুন।
ডিজিটাল প্রতারণা এখন শুধু বড় প্রতিষ্ঠান নয়, সাধারণ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীকেও লক্ষ্য করছে। তাই অনলাইনে সামান্য অসতর্কতাও বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। সচেতনতা, যাচাই এবং নিরাপদ ব্যবহারের অভ্যাসই ফিশিং থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
লেখক : প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, নেটবাংলা লিমিটেড
সময়ের আলো/জেডি