গার্মেন্টস শিল্পে বিদেশি কর্মকর্তা ছাড়াই শতভাগ দেশি জনশক্তি দিয়ে পুরো খাত পরিচালনা করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, দেশের মানুষের মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগাতে পারলে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতেও বিদেশি কর্মকর্তার ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘ইনোভেশন ইন অ্যাপারেল অ্যান্ড টেক্সটাইল : ড্রাইভিং কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড গ্রোথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। এমন শিক্ষা ও কর্মপরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে দেশের দক্ষ পেশাজীবীরা শুধু দেশেই কর্মসংস্থান না পান, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারেন।
তিনি জানান, শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তুলতে পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। পোশাক খাতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিশেষায়িত কোর্স, ইন্টার্নশিপ এবং অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সরাসরি কাজের সুযোগ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পোশাক শিল্পে নারীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসংখ্য নারী এ শিল্পের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং তাদের তৈরি পোশাকই বিশ্ববাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পরিচয় বহন করছে।
প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে মাহ্দী আমিন বলেন, প্রযুক্তি গ্রহণ করতে হবে, তবে এর অজুহাতে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান কমানো যাবে না। বরং প্রযুক্তির মাধ্যমে কর্মীদের দক্ষতা বাড়িয়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বন্ধ কারখানা চালু, উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা সহজ করা এবং নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে পোশাক শিল্পকে আধুনিকায়নে সরকার কাজ করছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের স্টার্টআপে প্রাথমিক মূলধন ও তহবিল দেওয়ার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।
সময়ের আলো/এমকে