জাল শিক্ষাগত সনদ দিয়ে সুপ্রিম কোর্টে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অফিস সহকারী মোহাম্মদ গোলাম মাওলাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চাকরির ১৯ বছরে বেতন-ভাতা বাবদ উত্তোলন করা ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯০১ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে অফিস আদেশ জারি করেছে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ (সাধারণ ও সংস্থাপন শাখা)। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে অটোমেটেড চালান সিস্টেমের মাধ্যমে ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, রাজধানীর হাতিরপুলের বাসিন্দা মোহাম্মদ গোলাম মাওলা ২০০৭ সালে সুপ্রিম কোর্টে চাকরি নেন। দীর্ঘদিন চাকরি করার পর এই অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে জাল সনদ দিয়ে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগে ২০২১ সালে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়।
মামলা প্রমাণিত হওয়ায় চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়। তবে, অপসারণের পাশাপাশি ২০০৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চাকরিকালে নেওয়া বেতন-ভাতা বাবদ ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯০১ টাকা ৩০ দিনের মধ্যে ফেরত দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অফিস আদেশে সাবেক অফিস সহকারী মোহাম্মদ গোলাম মাওলাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সৃজিত শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের ভিত্তিতে তিনি কোর্টের অফিস সহকারী পদে চাকরি নিয়েছেন। ফলে, চাকরিকালে দায়ের করা বিভাগীয় মামলায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রুলস অনুযায়ী চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়। তার চাকরি শুরু থেকেই বাতিল মর্মে গণ্য হয়। সে হিসেবে চাকরিকালে তিনি কোনো বেতন-ভাতা প্রাপ্য হন না। যেহেতু তিনি কোনো বেতন-ভাতা প্রাপ্য নন, তাই উত্তোলন করা টাকা অটোমেটেড চালান সিস্টেমের মাধ্যমে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো।
সময়ের আলো/মহু