ইউটিউব ও ফেসবুক দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রথমবারের মতো গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে সফলতার সম্ভাবনা দেখছেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার যুবক মোহাম্মদ নুর উদ্দীন। উপজেলার উত্তর পোমরা মহতিপাড়া এলাকায় ৮ শতক জমিতে দুই জাতের তরমুজ চাষ করেছেন তিনি। সবুজ লতার ফাঁকে এখন দুলছে ছোট-বড় অসংখ্য তরমুজ। ফলন দেখে চলতি মৌসুমেই ভালো লাভের আশা করছেন তিনি।
নুর উদ্দীন জানান, এর আগে কখনো তরমুজ চাষ করেননি। এবারই প্রথম চাষে নেমেছেন তিনি। জমিতে ‘বিগ বাইট’ ও ‘সূর্য ডিম’ জাতের তরমুজ চাষ করছেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় এ চাষ শুরু করেন তিনি।
চট্টগ্রাম কৃষি অঞ্চলের টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নুর উদ্দীনের জমিতে একটি প্রদর্শনী স্থাপন করেছে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কৃষি অফিস। এ জন্য কৃষি অফিস থেকে বীজ, সারসহ বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহের পাশাপাশি নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
প্রায় ৮ শতক জমিতে দুই জাতের ৪০০টির বেশি চারা রোপণ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৪০০ গাছে এক হাজারের কাছাকাছি তরমুজ ধরেছে। এর মধ্যে ৬০০টির বেশি তরমুজ ঝালি দিয়ে প্যাকেট করা হয়েছে। চারা রোপণের ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যে তরমুজ খাওয়ার উপযোগী হয় বলে জানান নুর উদ্দীন।
তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ব্যক্তিগতভাবে তার প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তরমুজ বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি মৌসুমে প্রায় এক লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।
নুর উদ্দীন বলেন, এবারই প্রথম তরমুজ চাষ করেছি। ইউটিউব ও ফেসবুক দেখে চাষে আগ্রহী হই। নতুন জাত ‘সূর্য ডিম’-এর চাহিদা বেশি। এ তরমুজ চাষে কোনো ধরনের বিষ প্রয়োগ করতে হয়নি। বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে পোকামাকড় দমন করছি। এ বিষয়ে কৃষি অফিস থেকে সবসময় পরামর্শ ও সহযোগিতা পেয়েছি।
তিনি আরও বলেন, শুরুতে এলাকার অনেক কৃষক তার তরমুজের গাছ ও ফলন নিয়ে আশাবাদী ছিলেন না। তবে পরিচর্যা ও পরিশ্রমে গাছ ও ফলন ভালো হওয়ায় এখন অন্য কৃষকরাও এ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। আগামী বছর এলাকার আরও কয়েকজন কৃষক তরমুজ চাষ করবেন বলে জানিয়েছেন।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উত্তম কুমার বলেন, গ্রীষ্মকালীন তরমুজসহ উচ্চমূল্যের ফসল চাষে আগ্রহী কৃষকদের উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি কারিগরি প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই জমিতে প্রচলিত ফসলের বাইরে নতুন ও লাভজনক ফসলের সম্ভাবনা তৈরি করাই কৃষি বিভাগের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। গ্রীষ্মকালীন তরমুজের মতো উচ্চমূল্যের ফসল সফলভাবে চাষ করা গেলে রাঙ্গুনিয়ার কৃষকদের আয় বাড়ানোর নতুন পথ তৈরি হতে পারে।
নুর উদ্দীনের জমিতে এখনো তরমুজ তোলার সময় হয়নি। তবে সবুজ লতার ফাঁকে বেড়ে ওঠা তরমুজগুলো এরই মধ্যে নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে। প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি উচ্চমূল্যের গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ রাঙ্গুনিয়ার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে।
সময়ের আলো/জোই