পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের আরও দুই বোন উজমা খান ও নরিন নিয়াজিকে ৩০ দিনের জন্য আটক করেছে লাহোরের প্রশাসন। এর এক দিন আগে ইমরানের আরেক বোন আলিমা খানকেও একই আইনে আটক করা হয়েছিল।
লাহোরের ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ আলী ইজাজের কার্যালয়ের আদেশ অনুযায়ী, পাঞ্জাবের জনশৃঙ্খলা রক্ষা অধ্যাদেশের আওতায় উজমা ও নরিনকে ৩০ দিনের জন্য আটক করা হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, তাদের কর্মকাণ্ড ‘জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষার পরিপন্থী’।
আদেশে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালের ৯ মে’র বিক্ষোভে তাদের সম্পৃক্ততা ছিল এবং তারা কর্মীদের সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে উৎসাহিত করেছিলেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনসমাবেশের মাধ্যমে আবারও কর্মীদের সংগঠিত করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ কারণে তাদের জনশান্তির জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
লাহোরের ডেপুটি কমিশনারের কার্যালয় জানিয়েছে, পুলিশের দেওয়া তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর রোববারের এক বৈঠকে আটকের সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়। পরে উজমা ও নরিনকে লাহোরের কোট লাখপত কারাগারে নেওয়া হয়।
এদিকে পিটিআই অভিযোগ করেছে, ইমরান খানের বোনদের পাশাপাশি পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যকেও আটক করা হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় তথ্যসচিব শেখ ওয়াকাস আকরাম দাবি করেন, তাদের সাঁজোয়া যানে করে অজ্ঞাত স্থানে নেওয়া হচ্ছিল। তবে উজমা ও নরিনের ৩০ দিনের আটকাদেশের বিষয়টি লাহোর প্রশাসনের নথিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইমরান খানের ছেলে কাসিম খানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন, তার ফুফু ও চাচাতো ভাইবোনদের বাড়িতে ঢুকে জোর করে গাড়িতে তোলা হয়েছে। তিনি তাদের আটকের কারণ ও অবস্থান জানানো হয়নি বলে দাবি করেন।
উজমা ও নরিনের আটকের এক দিন আগে আলিমা খানকেও ৩০ দিনের জন্য আটক করা হয়। লাহোরের ডেপুটি কমিশনারের পৃথক আদেশে তাকে ও মোহাম্মদ আমির নামের আরেক ব্যক্তিকে একই আইনের আওতায় আটক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ সূত্র পরে জানায়, আলিমাকে কোট লাখপত কারাগারে নেওয়া হয়েছে।
এই আটকের ঘটনা পিটিআইয়ের ২৭ সেপ্টেম্বরের দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও ইসলামাবাদমুখী মার্চের আগে ঘটল। দলটি ইমরান খানের মুক্তি এবং সংবিধানের প্রাধান্যের দাবিতে ওই কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। এদিকে পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, তারা ওই মার্চ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
ইসলামাবাদ হাইকোর্টও বলেছে, কোনো রাজনৈতিক দল বা তার নেতৃত্বের রাজধানীর সড়ক, মহাসড়ক, সড়কসংযোগ, টোল প্লাজা বা সরকারি ভবন দখল করার আইনগত অধিকার নেই।
পাকিস্তানে পিটিআইয়ের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে আরও কিছু আটক ও গ্রেফতারের খবর পাওয়া গেছে। পিটিআই দাবি করেছে, এসব পদক্ষেপ ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে ঘিরে দমন-পীড়নের অংশ; অন্যদিকে কর্তৃপক্ষ জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার কারণ দেখিয়েছে।
সময়ের আলো/জেডি