আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
তবে নিষেধাজ্ঞা কবে ঘোষণা করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালীন এ সপ্তাহেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই আইসিসির কার্যক্রমের বিরোধিতা করে আসছে। বিশেষ করে ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আইসিসির তদন্ত নিয়ে ওয়াশিংটনের আপত্তি রয়েছে।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির কয়েকজন বিচারক ও প্রসিকিউটরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এবার পুরো আদালতকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হলে তা আরও বড় পদক্ষেপ হবে।
আইসিসির কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরো সংস্থার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে আইসিসির দৈনন্দিন কার্যক্রমে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়লে মার্কিন ব্যক্তি ও কোম্পানিগুলো বিশেষ অনুমতি ছাড়া আইসিসিকে অর্থ, পণ্য বা সেবা দিতে পারবে না। মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল ব্যাংকগুলোও আদালতের সঙ্গে লেনদেন এড়িয়ে চলতে পারে।
এর ফলে আইসিসির আইটি সেবা, বীমা, তদন্তকারী নিয়োগ এবং আর্থিক লেনদেন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আদালতের কয়েক ডজন মার্কিন কর্মীর বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা হতে পারে বলে আইসিসির কর্মকর্তারা আগে সতর্ক করেছেন।
আইসিসি কী?
২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করে। কোনো দেশ নিজে এসব গুরুতর অপরাধের বিচার করতে না চাইলে বা সক্ষম না হলে আইসিসি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ