লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের করুণানগর বাজারের পূর্ব পাশে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় একটি করাতকল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে একটি চিকিৎসাকেন্দ্র ও মাদ্রাসার গা-ঘেঁষে করাতকল বসানোর চেষ্টা চলছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় মো. রহিম ও মো. আ. রহিম ফরায়েজী যৌথভাবে করাতকলটি চালুর চেষ্টা করছেন। প্রস্তাবিত স্থানটির সামনেই রয়েছে লক্ষ্মীপুর-রামগতি মহাসড়ক ও বন বিভাগের একটি বাগান। এর কয়েক গজের মধ্যে রয়েছে ‘হ্যাপি লাইফ লাইন ডায়াগনস্টিক সেন্টার’, ‘তাহসীমুল কোরআন মহিলা মাদ্রাসা’, বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক ঘরবাড়ি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, করাতকলটি চালু হলে কাঠের গুঁড়া, ধুলাবালি ও শব্দদূষণে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে চিকিৎসাকেন্দ্রের রোগী ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মহিন উদ্দীন বলেন, মাদ্রাসা ও মেডিকেল সেন্টারের মতো সংবেদনশীল স্থানের পাশে কীভাবে করাতকল বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়। এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ চান তারা।
তবে করাতকলের উদ্যোক্তা মো. রহিম বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতের কাজ চলছে। কারও ক্ষতি না করে ব্যবসা পরিচালনা করা হবে।
কমলনগর উপজেলা বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সংবেদনশীল ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় করাতকল স্থাপনের সুযোগ নেই। তিনি এ ধরনের কোনো ছাড়পত্র দেবেন না।
লক্ষ্মীপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ পাঠানও বলেন, প্রস্তাবিত স্থানের পাশে ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও মাদ্রাসা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সেখানে করাতকল স্থাপনের সুযোগ নেই।
প্রশাসনিক ও পরিবেশগত বিধিনিষেধের বিষয়টি উল্লেখ করে করাতকল স্থাপনের উদ্যোগ দ্রুত বন্ধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সময়ের আলো/জোই