লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে বয়োবৃদ্ধ পিতাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার পর উল্টো স্বজনদের ফাঁসাতে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। উপজেলার ৩ নম্বর চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শাহাবউদ্দিন বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চর কলাকোপা গ্রামের মো. শাহাবউদ্দিনের (৬৫) সঙ্গে ছোট ছেলে মাঈন উদ্দিন ও পুত্রবধূ রুনা বেগমের জমিজমা এবং পারিবারিক বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাঈন উদ্দিন ও তার স্ত্রী রুনা বেগম বৃদ্ধ পিতা শাহাবউদ্দিন ও শাশুড়ি জয়নব বিবির ওপর চড়াও হন এবং তাদের বেধড়ক মারধর করেন।
পরবর্তীতে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর রুনা বেগম বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রামগতি আদালতে কাল্পনিক গর্ভপাতের অভিযোগ এনে একটি সাজানো মামলা (সিআর মামলা নং-৫৩০) দায়ের করেন। মামলায় নির্যাতিত বৃদ্ধ পিতা শাহাবউদ্দিন, ভাশুর আলাউদ্দিন (৪৬) ও ভাতিজা মো. নোমানকে (২৩) আসামি করা হয়।
অশ্রুসজল চোখে নির্যাতিত পিতা শাহাবুদ্দিন বলেন, আমার জায়গায় ছেলে মাঈন উদ্দিন ও তার স্ত্রী থাকে, আবার আমাকে ও আমার স্ত্রীকে মারধর করে। বর্তমান সরকার পিতা-মাতার সুরক্ষায় যে আইন করেছে, আমার ছেলের কাছে তার কোনো মূল্যায়ন নেই। আমি দেশবাসীর কাছে এর বিচার চাই।
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে মাঈন উদ্দিন বলেন, আমার স্ত্রীকে মারধর করা হয়েছে, তাই মামলা করেছি। একটি করেছি, সামনে আরও করব।
তবে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, ঘটনাটি সম্পূর্ণ সাজানো ও ভিত্তিহীন। স্থানীয় সমাজসেবক মো. মনির হোসেন জানান, রুনা বেগমের পেটের সন্তান অনেক আগেই নষ্ট হয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। বৃদ্ধা মা জয়নব বিবি ও মামলার অন্য আসামিদের পরিবারও এই মিথ্যা মামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে নির্যাতনকারীদের শাস্তি দাবি করেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রামগতি থানার এসআই মো. জিয়াউর রহমান জানান, গর্ভপাতের অভিযোগটির সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত চলছে। চিকিৎসা প্রতিবেদন পেলেই মূল ঘটনা স্পষ্ট হবে।
এদিকে বৃদ্ধ পিতাকে নির্যাতনের পর উল্টো হয়রানিমূলক মামলা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সময়ের আলো/আতা