আগামী বছরের পবিত্র হজে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত হজযাত্রীর কোটা পূরণ না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নিবন্ধনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। অথচ মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধন করেছেন মাত্র ৩৯ হাজার ১২৬ জন। ফলে নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটার অর্ধেকও পূরণ হয়নি।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধিত হজযাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২১৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩৮ হাজার ৯০৮ জন। অর্থাৎ এখনও ৩৯ হাজার ৩৭৪ জনের নিবন্ধন বাকি। শেষ মুহূর্তে নিবন্ধন বাড়াতে সংশ্লিষ্টরা তৎপরতা চালালেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো কোটা পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিবন্ধনের সময়সীমা আর বাড়ার সম্ভাবনা কম। ফলে আজ ও আগামীকাল—এই দুই দিনে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক হজযাত্রী নিবন্ধন না করলে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ কোটা অপূর্ণই থেকে যেতে পারে।
বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী সংগ্রহের জন্য এবার ২৮টি লিড এজেন্সির সর্বনিম্ন কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার করে। আর ৬৭৩টি সমন্বয়কারী এজেন্সির সর্বনিম্ন কোটা ৪৫ জন।
তবে অনেক এজেন্সি গত কয়েক বছরেও একজন হজযাত্রী নিবন্ধন করাতে পারেনি। এরপরও নির্দিষ্টসংখ্যক হজযাত্রী নিবন্ধনের শর্তে এসব এজেন্সিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, সমন্বয়কারী এজেন্সিগুলোকে কমপক্ষে ৪৫ জন হজযাত্রী নিবন্ধন করাতে হবে। কোনো এজেন্সি ৪৪ জনও নিবন্ধন করাতে না পারলে মন্ত্রণালয় নির্ধারিত শাস্তি মেনে নেওয়ার বিষয়ে চুক্তিতে সম্মত হয়েছে।
লিড এজেন্সিগুলোর অবস্থাও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। ‘সোহেল অ্যান্ড ব্রাদার্স’ নামে একটি লিড এজেন্সি মঙ্গলবার পর্যন্ত নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মাত্র একজন হজযাত্রী নিবন্ধন করেছে। তবে এজেন্সিটির আওতায় সমন্বয়কারী এজেন্সির মাধ্যমে নিবন্ধন হয়েছে ১ হাজার ৭৩ জন।
সোহেল অ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আবু জাফর বলেন, ‘মন্ত্রণালয় আমাকে নিরপেক্ষ মনে করেছে, এ জন্য লিড এজেন্সি বানিয়েছে। আশা করি, শেষ দিন পর্যন্ত ২ হাজার হাজির নিবন্ধন সম্পন্ন করা যাবে।’
হজযাত্রীদের প্রথমে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে প্রাক্-নিবন্ধন করতে হচ্ছে। এরপর ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে আগামীকাল ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। অর্থাৎ প্রাথমিক নিবন্ধনের জন্য মোট ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিতে হবে।
যারা এই পর্যায়ের নিবন্ধন করবেন, তারা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্যাকেজের বাকি অর্থ জমা দিয়ে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করবেন।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আয়াতুল ইসলাম বলেন, নিবন্ধনের সময় বাড়ানোর বিষয়ে সৌদি সরকারের অনুমতি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। সময় না বাড়লে আগামীকাল থেকেই নিবন্ধন বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হজযাত্রীদের ভালো সাড়া পাওয়া যাবে।
তিনি জানান, বাংলাদেশের হজযাত্রীর মোট কোটা ১ লাখ ২৭ হাজার। তবে হজযাত্রী কম পাওয়ায় এবার ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কমানো কোটাও পূরণ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন হজের তুলনায় ওমরাহ পালনে বেশি আগ্রহী।
আগামী বছরের হজের ফ্লাইট শুরু হবে ৮ এপ্রিল। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৭ সালের ১৫ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় আগামী বছর হজ পালনে সর্বনিম্ন খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বনিম্ন খরচ হবে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮ টাকা।
সময়ের আলো/এসএকে