আগামী বছরের পবিত্র হজে বাংলাদেশ থেকে নিবন্ধনের সময়সীমা বৃহস্পতিবার শেষ হচ্ছে। ২০২৭ সালের হজের জন্য বাংলাদেশকে ৭৮ হাজার ৫০০ হজযাত্রীর কোটা দেওয়া হলেও, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন মাত্র ৫৮ হাজার ৬২৯ জন।
এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪,৪১৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৪ হাজার ২১১ জন। অর্থাৎ এখনও নিবন্ধন বাকি রয়েছে ১৯ হাজার ৮৭১ জনের। শেষ মুহূর্তে নিবন্ধন বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের তৎপরতা বাড়লেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো কোটা পূরণ হবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিবন্ধনের সময়সীমা আর বাড়ার সম্ভাবনা কম। ফলে আজকের মধ্যে নিবন্ধনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লে এবার বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ কোটা অপূর্ণই থেকে যেতে পারে।
বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী সংগ্রহে এবার ২৮টি লিড এজেন্সির সর্বনিম্ন কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার করে। আর ৬৭৩টি সমন্বয়কারী এজেন্সির সর্বনিম্ন কোটা ৪৫ জন। তবে অনেক এজেন্সি গত কয়েক বছরেও একজন হজযাত্রী নিবন্ধন করাতে পারেনি। এরপরও তালিকায় থাকা এসব এজেন্সিকে এবার নির্দিষ্টসংখ্যক হজযাত্রী নিবন্ধনের শর্তে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী, সমন্বয়কারী এজেন্সিগুলোকে কমপক্ষে ৪৫ জন হজযাত্রী নিবন্ধন করাতে হবে। কোনো এজেন্সি ৪৪ জনও নিবন্ধন করাতে না পারলে মন্ত্রণালয় নির্ধারিত শাস্তি মেনে নেওয়ার বিষয়ে চুক্তিতে সম্মত হয়েছে।
হজযাত্রীদের প্রথমে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে প্রাক্-নিবন্ধন করতে হয়েছে। এরপর ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। যারা এ পর্যায়ের নিবন্ধন করবেন, তারা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্যাকেজের অবশিষ্ট অর্থ জমা দিয়ে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করবেন।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আয়াতুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিবন্ধনের সময় বাড়ানোর বিষয়ে সৌদি সরকারের অনুমতি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। সময় না বাড়লে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই নিবন্ধন বন্ধ হয়ে যাবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হজযাত্রীদের ভালো সাড়া পাওয়া যাবে বলে তারা আশাবাদী।’
তিনি জানান, বাংলাদেশের মোট হজযাত্রীর কোটা ১ লাখ ২৭ হাজার। তবে হজযাত্রী কম পাওয়ায় এবার ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কমানো কোটাও পূরণ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর অন্যতম কারণ বাংলাদেশের মানুষ এখন হজের চেয়ে ওমরাহ পালনে বেশি আগ্রহী।
আগামী বছরের হজের ফ্লাইট শুরু হবে ৮ এপ্রিল। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৭ সালের ১৫ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় আগামী বছর হজ পালনে সর্বনিম্ন খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বনিম্ন খরচ হবে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮ টাকা।
সময়ের আলো/কেএইচও