হরমুজ প্রণালি ৭ দিনে খুলতে ইরানের প্রস্তাবে কী আছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হরমুজ প্রণালি সাত দিনের মধ্যে পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে নিউইয়র্কে

2026-09-25T22:40:35+00:00
2026-09-25T22:40:35+00:00
 
  শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
হরমুজ প্রণালি ৭ দিনে খুলতে ইরানের প্রস্তাবে কী আছে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম 
ইরানের তেহরানে একটি ভবনে হরমুজ প্রণালি নিয়ে লাগানো বিলবোর্ডের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন মানুষ। ছবি : আলজাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হরমুজ প্রণালি সাত দিনের মধ্যে পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে নিউইয়র্কে কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের মধ্যেই এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটি গ্রহণ করলেই সাত দিনের সময়সীমা শুরু হতে পারে। 

তবে সাত দিনের এই পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করেননি আরাঘচি। তিনি জানান, প্রস্তাবটি গত ১৭ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) সঙ্গে অনেকটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। ওই সমঝোতার মাধ্যমে সাময়িকভাবে সংঘাত কমলেও পরে তা ভেঙে পড়ে।    

আরাঘচির ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটি গ্রহণ করলে পরদিন থেকেই সময় গণনা শুরু হবে এবং সপ্তম দিনের শেষে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে।

প্রস্তাবে কী থাকতে পারে

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের নতুন প্রস্তাবটি জুনের সমঝোতার ভিত্তিতে তৈরি হলেও এর সময়সূচি আরও সংক্ষিপ্ত এবং ধাপগুলোর ক্রম পরিবর্তন করা হয়েছে। 

প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথমে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ হবে। এর মধ্যে লেবাননও থাকবে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে তার নৌ অবরোধ ও ইরানের ওপর আরোপিত তেল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে এবং ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড়বে। সাত দিন পর হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। এরপর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা। 

রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক আরবান কানিংহাম অবশ্য বলেছেন, ইরান নিষেধাজ্ঞা থেকে বড় ধরনের ছাড় পাবে, এমন সম্ভাবনা কম। তার মতে, হরমুজ নিয়ন্ত্রণ ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বিষয় এবং এ অবস্থান থেকে তেহরান সরে আসবে না।

জুনের সমঝোতায় কী ছিল 

জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতায় সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান তাৎক্ষণিক বন্ধ করার কথা ছিল। পাশাপাশি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। 

ওই সমঝোতায় ইরানের তেল রফতানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক যোগাযোগ স্বাভাবিক করার বিষয়ও ছিল। তবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুতসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরবর্তী বৃহত্তর শান্তি আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছিল। 

পরের মাসে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলে ওই সমঝোতা ভেঙে পড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মতপার্থক্য কোথায়

ইরান চায়, আগে হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে নেওয়া এবং যুদ্ধ-সংক্রান্ত কিছু শর্ত পূরণ করা হোক। এরপর পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হোক।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র চায় শুরু থেকেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে আলোচনার কেন্দ্রে রাখা হোক। ফলে দুই পক্ষের আলোচনার ধাপ নিয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। 

আল জাজিরার বিশ্লেষক বুরচু ওজচেলিক বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বড় বাধা হলো— দুই পক্ষই মনে করছে, তারা অপর পক্ষের ওপর যথেষ্ট চাপ প্রয়োগ করতে পারবে।


যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক চাপ

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহনপথ। ইরান ও ওমানের মধ্য দিয়ে যাওয়া এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় জ্বালানির উচ্চমূল্য রাজনৈতিক চাপও তৈরি করছে। গবেষক কানিংহমের মতে, জাতিসংঘে ইরানের এই প্রস্তাব প্রকাশের মাধ্যমে তেহরান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর তেল ও গ্যাসের দাম নিয়ে চাপ বাড়াতে চাইছে।

তবে ট্রাম্প বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরান নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ফলাফল দেখার অপেক্ষায় আছে এবং ভোটের পর একটি সমঝোতা হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, সমঝোতা না হলে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

শান্তি আলোচনা কোন পর্যায়ে

মঙ্গলবার কাতারের মধ্যস্থতায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন। আরাঘচি বৈঠককে ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেন এবং জানান, দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে।  

তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এটিকে বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে দেখেননি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এখনও মূল বিরোধ রয়ে গেছে— বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে। ফলে ইরানের সাত দিনের প্রস্তাব বাস্তবে কতটা অগ্রগতি তৈরি করতে পারে, তা এখনও অনিশ্চিত।

সূত্র : আল-জাজিরা 

সময়ের আলো/ইউএমএইচ
  বিষয়:   হরমুজ  ইরান 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: