জামালপুরের বকশীগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে দুই মাস ধরে নিজ বিদ্যালয়ে ক্লাস করতে পারছে না কামালের বার্ত্তী রেজি. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দেড় শত শিক্ষার্থী। বিকল্প হিসেবে একই গ্রামের কেবি মডেল সেসিপ উচ্চ বিদ্যালয়ে তাদের পাঠদান চলছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিয়মিত ক্লাস সকাল ১০টায় শুরু হওয়ায় প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে হচ্ছে ভোর ৬টা ৩০ মিনিট থেকে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত। এতে সময় স্বল্পতায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান, বাড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি।
সাধুরপাড়া ইউনিয়নের কামালের বার্ত্তী গ্রামে ১৯৭৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ২০১৩ সালে এটি সরকারি বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। ২০০০ সালে বিদ্যালয়ে একতলা একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। প্রায় ২৫ বছর ধরে ব্যবহারের পর ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে পাঠদান চলাকালে ভবনের ছাদে বিকট শব্দ হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান বন্ধ করে দেন।
বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে একই গ্রামের কেবি মডেল সেসিপ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকে সেখানে প্রতিদিন সকাল ৬টা ৩০ মিনিট থেকে ৯টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ক্লাস চলছে। সকাল ১০টায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু হওয়ায় এর আগেই প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের পাঠদান শেষ করতে হচ্ছে।
শিক্ষকরা জানান, আগে প্রতিটি ক্লাসে ৫০ মিনিট করে পাঠদান করা হলেও বর্তমানে সময় স্বল্পতার কারণে তা কমিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট করা হয়েছে। ফলে সব বিষয়ে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের নিয়মিত সমাবেশ ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং খেলাধুলার সুযোগও বন্ধ রয়েছে।
কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তারা এখন কেবি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস করছে। কিন্তু মাত্র আড়াই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে সব বিষয়ের ক্লাস করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক সময় ভোরে বিদ্যালয়ে আসতে গিয়ে নাশতা না করেই বের হতে হয় বলেও জানায় তারা। দ্রুত নিজ বিদ্যালয়ের মাঠে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি তাদের।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়ার কারণে সব বিষয়ে ঠিকভাবে পাঠদান করানো সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিটি ক্লাসে যে সময় দেওয়া প্রয়োজন, তা পাওয়া যাচ্ছে না। সময় শেষ হওয়ার আগেই শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে দিতে হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম খলিল বলেন, বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে আবেদন করেছি। ছাদে বিকট শব্দ হওয়ার পর থেকে ওই ভবনে পাঠদান বন্ধ রেখে পাশের কেবি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা না হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটবে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হাসান রেজাউল করিম বলেন, বিদ্যালয়টি পরিদর্শনের পর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান বন্ধ করে অন্য একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে। নিজস্ব ক্যাম্পাসে অস্থায়ী একটি ঘর নির্মাণের জন্য ৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। অস্থায়ী ঘরটি নির্মাণ হলে শিক্ষার্থীদের নিজ বিদ্যালয়েই পূর্ণ সময় পাঠদান শুরু করা যাবে।
বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন বলেন, পুরোনো ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে এবং কেবি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয়েছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
সময়ের আলো/জোই