রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুই দেশের কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানান, রুশ হামলায় দেশটির সুমি, জাপোরিঝিয়া ও দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সি এক কিশোরীও রয়েছে। রাজধানী কিয়েভেও কয়েকজন আহত হয়েছেন। এর এক দিন আগে শহরটিতে রুশ হামলায় সাতজন নিহত হন।
অন্যদিকে রাশিয়ার কর্মকর্তাদের দাবি, ইউক্রেনীয় হামলায় ক্রাসনোদার ও বেলগোরোদ অঞ্চলে চারজন নিহত হয়েছেন। খেরসন অঞ্চলের রুশ-নিয়ন্ত্রিত এলাকার এক কর্মকর্তা জানান, আস্কানিয়া-নোভা এলাকায় একটি ক্যাফেতে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় দুই তরুণীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন।
রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশই দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করেছে। জাতিসংঘ বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া প্রতিদিনই হামলা বাড়িয়ে চলেছে। তাঁর দাবি, রাশিয়ার ছোড়া জেটচালিত ড্রোনের ৫৫ শতাংশ বর্তমানে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করতে পারছে।
পাল্টা হামলায় ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে আরও গভীরে আঘাত হানছে। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, শনিবার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগার এবং রোস্তভ অঞ্চলের রুশ বাহিনীকে সরবরাহকারী একটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন।
এদিকে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বলেছেন, মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে। তবে যুদ্ধ অবসানের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সময়ের আলো/জেডি