ইরানের যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ আরও বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র আরও বেশি ছাড় আদায় করতে পারবে, এমন হিসাব থেকেই আপাতত প্রস্তাবটি নাকচ করেছেন তিনি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্প বলেন, ইরান ‘খুব খারাপভাবে হারছে’ বলেই চুক্তি করতে চাইছে। তবে ইরানের প্রস্তাবিত চুক্তি তার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক জবাব এখনো পায়নি তেহরান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে কাতার।
ইরানের সাত দিনের প্রস্তাবে ছিল-ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের জব্দ সম্পদ ছাড় এবং লেবানন ও ইয়েমেনসহ বিস্তৃত আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি। এর বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প মনে করছেন অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখলে ইরান আরও ছাড় দিতে বাধ্য হতে পারে। তবে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ইরানের ওপর চাপ বাড়ালেই যে দেশটি আরও ছাড় দেবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং তেহরান হরমুজ প্রণালি ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য কৌশলগত এলাকায় সংঘাতের পরিধি বাড়িয়ে পাল্টা চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আস্থার সংকটের কথা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, আগের দফার আলোচনার মধ্যেই হামলা ও পরবর্তী নিষেধাজ্ঞার কারণে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তি নিয়ে তেহরানের আস্থা কমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষই আলোচনার দরজা খোলা রাখলেও এখনো মূল প্রশ্ন হলো-কে আগে ছাড় দেবে। ফলে যুদ্ধবিরতির চেয়ে দীর্ঘায়িত অচলাবস্থাই আপাতত বেশি সম্ভাব্য পরিস্থিতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সময়ের আলো/জেডি