ছুটির দিনে ঢাকার কাছেই ঘুরে আসুন ৮ গন্তব্যে

সময়ের আলো ডেস্ক

বিবিধ

শরৎ মানেই নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুল। শহরের কংক্রিটের ভিড়ে থেকেও এই ঋতুর সৌন্দর্য উপভোগ করার

2026-09-29T10:28:42+00:00
2026-09-29T10:46:36+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিবিধ
ছুটির দিনে ঢাকার কাছেই ঘুরে আসুন ৮ গন্তব্যে
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৮ এএম  আপডেট: ২৯.০৯.২০২৬ ১০:৪৬ এএম
ছবি : সংগৃহীত
শরৎ মানেই নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুল। শহরের কংক্রিটের ভিড়ে থেকেও এই ঋতুর সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে। একটু সময় বের করে ঢাকার আশপাশে বেরিয়ে পড়লেই দেখা মিলতে পারে সাদা কাশফুলে ঢাকা মাঠ, নদীর পাড় কিংবা লেকের ধারের মনোরম দৃশ্যের।

কাশফুল দেখতে এখন আর দিনের পর দিন ছুটি নিয়ে দূরের কোনো এলাকায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই। রাজধানী ও এর আশপাশের বেশ কিছু এলাকায় শরৎকালে কাশফুল ফুটে। কোথাও বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে কাশবন, কোথাও নদীর তীরে সাদা ফুলের সারি। আবার কোনো কোনো জায়গায় কাশফুলের সঙ্গে যুক্ত হয় নৌভ্রমণ, লেক কিংবা খোলা প্রান্তরের সৌন্দর্য।

পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে এক দিনের ছোট্ট ভ্রমণের জন্য এসব জায়গা হতে পারে ভালো বিকল্প। তবে কাশবনের অনেক স্থানই নির্দিষ্ট পর্যটনকেন্দ্র নয়। তাই যাওয়ার আগে স্থানীয় পরিস্থিতি, যাতায়াত ব্যবস্থা ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির বিষয়টি জেনে নেওয়া জরুরি।

উত্তরা দিয়াবাড়ি
ঢাকার মধ্যে কাশফুল দেখার কথা উঠলে সবার আগে আসে উত্তরার দিয়াবাড়ির নাম। শহরের ব্যস্ততা থেকে খুব বেশি দূরে না গিয়েই এখানে পাওয়া যায় খোলা আকাশ, লেক, প্রশস্ত সড়ক ও কাশফুলের সমারোহ। শরতের বিকেলে সূর্যের আলো যখন কাশফুলে পড়ে, তখন পুরো পরিবেশই হয়ে ওঠে আলাদা রকমের সুন্দর।

দিয়াবাড়ির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সহজ যাতায়াত। মেট্রোরেলে উত্তরা উত্তর স্টেশনে নেমে সেখান থেকে রিকশা বা অটোরিকশায় দিয়াবাড়ির বিভিন্ন অংশে যাওয়া যায়। কেউ চাইলে হেঁটেও আশপাশের কিছু এলাকায় ঘুরতে পারেন।

বিকেল ৪টার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়টিকে কাশফুল দেখার জন্য বেছে নিতে পারেন। এই সময়ের আলো ছবি তোলার জন্যও বেশ উপযোগী। তবে ছুটির দিনে দর্শনার্থীর চাপ বেশি থাকতে পারে।

আফতাবনগর
দূরে না গিয়ে রাজধানীর মধ্যেই শরতের বিকেল কাটাতে চাইলে আফতাবনগর হতে পারে আরেকটি গন্তব্য। রামপুরা ব্রিজ পার হয়ে আফতাবনগরের ভেতরের দিকে গেলে বিভিন্ন খোলা জায়গা ও জলাশয়ের আশপাশে কাশফুল দেখা যায়।

শহরের কাছেই হওয়ায় অল্প সময়ের জন্য বের হওয়ার ক্ষেত্রে জায়গাটি সুবিধাজনক। বিকেলের নরম আলোয় কাশবনের পাশে কিছুটা সময় হাঁটা কিংবা ছবি তোলায় কেটে যেতে পারে বিকেল।

রামপুরা ব্রিজ বা জহুরুল ইসলাম সিটি গেট থেকে রিকশা ও অটোরিকশায় আফতাবনগরের বিভিন্ন এলাকায় যাওয়া যায়। তবে কাশফুলের অবস্থান প্রতিবছর একই জায়গায় নাও থাকতে পারে। তাই স্থানীয়দের কাছ থেকে সেদিনের পরিস্থিতি জেনে নেওয়া ভালো।

পূর্বাচল ৩০০ ফুট ও লেকপাড়
রাজধানীর কোলাহল থেকে একটু দূরে যেতে চাইলে পূর্বাচল ৩০০ ফুট সড়ক হতে পারে আকর্ষণীয় একটি বিকল্প। কুড়িল বিশ্বরোড থেকে পূর্বাচলের দিকে যাওয়ার পথে রাস্তার দুই পাশে খোলা জায়গা ও লেকের পাড়ে শরৎকালে কাশফুল দেখা যায়।

দীর্ঘ সড়ক, খোলা আকাশ, লেক ও সবুজের সঙ্গে সাদা কাশফুল মিলে এখানকার দৃশ্য হয়ে ওঠে মনোরম। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার আগের সময়টিতে পরিবেশ উপভোগ করতে পারেন।

কুড়িল বিশ্বরোড থেকে সিএনজি, অটোরিকশা কিংবা ব্যক্তিগত গাড়িতে পূর্বাচলের দিকে যাওয়া যায়। মোটরসাইকেল নিয়েও ঘুরে আসতে পারেন। তবে রাস্তার পাশে যেখানে-সেখানে গাড়ি থামিয়ে ছবি তোলা কিংবা চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করাই ভালো।

বিরুলিয়া ও তুরাগ নদ
কাশফুল দেখার পাশাপাশি নৌভ্রমণের আনন্দ নিতে চাইলে যেতে পারেন সাভারের বিরুলিয়ায়। তুরাগ নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় শরৎকালে কাশফুল ফুটে থাকে। নদীর পানিতে নৌকা চলার সময় দুই পাশে কাশফুলের দৃশ্য ভ্রমণে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা।

মিরপুর, আমিনবাজার কিংবা আশুলিয়ার দিক থেকে বিরুলিয়ায় যাওয়া যায়। সেখানে স্থানীয় রিকশা বা অটোরিকশায় নদীর ঘাটে পৌঁছে নৌকা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বিকেলের শেষভাগে নদীর পাড়ে বসে কিংবা নৌকায় ঘুরে কাশফুল দেখার অভিজ্ঞতা আলাদা হতে পারে। তবে নদীতে নামার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। নৌকায় ওঠার সময় ধারণক্ষমতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। শিশুদের সঙ্গে গেলে তাদের প্রতি বাড়তি নজর রাখা উচিত।

কেরানীগঞ্জের সারিঘাট
রাজধানীর দক্ষিণে কেরানীগঞ্জের সারিঘাটও হতে পারে শরতের এক দিনের গন্তব্য। ঢাকার খুব কাছেই হলেও শহরের ব্যস্ততা পেছনে ফেলে এখানে কিছুটা খোলা পরিবেশ পাওয়া যায়। নদী, সবুজ প্রান্তর ও কাশফুল মিলে তৈরি হয় শরতের পরিচিত দৃশ্য।

বাবুবাজার কিংবা পোস্তগোলা সেতু পার হয়ে কেরানীগঞ্জের দিকে গিয়ে সারিঘাটে পৌঁছানো যায়। বিকেলের দিকে সেখানে গেলে কাশফুলের পাশাপাশি নদী ও আশপাশের প্রকৃতির দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

তবে যেকোনো খোলা জমিতে প্রবেশের আগে সেটি ব্যক্তিমালিকানাধীন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া উচিত। স্থানীয়দের অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করাই নিরাপদ ও শোভন।

মোহাম্মদপুরের বসিলা ও ওয়াশপুর
ঢাকার ভেতরে থেকেই কিছুটা প্রকৃতির স্বাদ নিতে চাইলে বসিলা ও ওয়াশপুরের দিকেও যেতে পারেন। বসিলা সেতুর ওপারে ওয়াশপুর ও ঘাটারচর এলাকার নদীতীরবর্তী খোলা জায়গাগুলোতে শরৎকালে কাশফুল দেখা যায়।

এখানে যাওয়ার জন্য মোহাম্মদপুর থেকে বসিলা সেতু পার হয়ে রিকশা বা অটোরিকশা নেওয়া যায়। নদীর তীরবর্তী খোলা জায়গায় কিছুটা সময় কাটানো কিংবা কাশফুলের সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ রয়েছে।

তবে এলাকাগুলোকে নির্দিষ্ট পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। কোথায় কাশফুল আছে বা কোথায় যাওয়া নিরাপদ—সেটি স্থানীয়দের কাছ থেকে জেনে নেওয়া ভালো।

আশুলিয়ার নদীতীর
ঢাকার বাইরে খুব বেশি দূরে যেতে না চাইলে আশুলিয়ার দিকেও ঘুরে আসতে পারেন। তুরাগ নদীর তীর, জলাশয় ও বিস্তীর্ণ খোলা জায়গায় শরৎকালে বিভিন্ন স্থানে কাশফুলের দেখা মেলে।

ঢাকা থেকে সাভার বা আশুলিয়াগামী বাসে গিয়ে বেড়িবাঁধ কিংবা আশুলিয়ার উপযুক্ত স্থানে নামা যায়। এরপর স্থানীয় অটোরিকশা নিয়ে কাশফুলের জায়গাগুলোতে যাওয়া সম্ভব।

আশুলিয়ায় একটি নির্দিষ্ট জায়গার বদলে পথে বিভিন্ন খোলা এলাকায় কাশফুলের দেখা মিলতে পারে। তাই সময় হাতে রেখে বের হলে ভালো। বিকেলের দিকে নদীর বাতাস ও কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করে সন্ধ্যার আগেই ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনা করা যায়।

মাওয়া ও পদ্মার চর
কাশফুলের সঙ্গে বিশাল নদীর সৌন্দর্য একসঙ্গে দেখতে চাইলে গন্তব্য হতে পারে মাওয়া। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ধরে সহজেই মাওয়া যাওয়া যায়। পদ্মার তীর ও আশপাশের চরাঞ্চলে শরৎকালে কাশফুল ফুটলে নদী, আকাশ আর সাদা ফুল মিলে তৈরি করে বিস্তৃত এক প্রাকৃতিক দৃশ্য।

মাওয়া ঘাটে পৌঁছে স্থানীয়ভাবে নৌযানের ব্যবস্থা করে উপযুক্ত চরাঞ্চলে যাওয়া যায়। তবে চরাঞ্চলে যাওয়ার আগে আবহাওয়া, নদীর পরিস্থিতি ও নৌযানের নিরাপত্তা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া জরুরি।

নদীর মাঝের চর কিংবা নির্জন এলাকায় সন্ধ্যার পর না থাকাই ভালো। ফিরতি নৌযানের ব্যবস্থা আগে করে রাখলে ভ্রমণে অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা এড়ানো সম্ভব।

কাশবনে গেলে যেসব বিষয় মনে রাখবেন
কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে প্রকৃতির ক্ষতি করা উচিত নয়। ছবি তোলার জন্য কাশফুল ছেঁড়া, গাছপালা নষ্ট করা কিংবা কাশবনের ভেতরে নির্বিচারে চলাচল করা থেকে বিরত থাকতে হবে। একটি ফুল না ছিঁড়েও যে সুন্দর ছবি তোলা যায়, সেটিই হওয়া উচিত ভ্রমণের মূলনীতি।

অনেক কাশবন খোলা মাঠ বা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে গড়ে ওঠে। তাই অনুমতি ছাড়া কোনো জমিতে প্রবেশ না করাই ভালো। একইভাবে নদী বা জলাশয়ের পাশে গেলে পিচ্ছিল জায়গা থেকে দূরে থাকতে হবে।

বিকেলে বের হলে ফেরার সময়টিও মাথায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে প্রত্যন্ত বা নদীতীরবর্তী এলাকায় সন্ধ্যার পর গণপরিবহন কমে যেতে পারে। তাই ফেরার যানবাহন আগে নিশ্চিত করে রাখা ভালো।

বৃষ্টির পর কাশবনের পথ কাদাময় ও পিচ্ছিল হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আরামদায়ক ও উপযোগী জুতা ব্যবহার করা উচিত। শিশু ও বয়স্কদের সঙ্গে থাকলে পথের পরিস্থিতি বিবেচনা করে গন্তব্য নির্বাচন করাই ভালো।

শরতের কাশফুলের সৌন্দর্য ক্ষণস্থায়ী। কয়েক সপ্তাহের এই সাদা-শুভ্র আয়োজন দেখতে দূরের কোনো গন্তব্যে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ঢাকার আশপাশের এসব জায়গার যেকোনো একটিতে একটি বিকেল কাটিয়েই পাওয়া যেতে পারে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার অনুভূতি। নীল আকাশের নিচে দুলতে থাকা কাশফুল আর বিকেলের নরম আলো— ব্যস্ত নগরজীবনের মাঝেও যা এনে দিতে পারে এক টুকরো প্রশান্তি।


সময়ের আলো/কেএইচ
  বিষয়:   সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
বিবিধ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: