জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চরখাওয়া ইউনিয়নের সানন্দবাড়ি এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের বাম তীরে এক কিলোমিটারের বেশি এলাকা তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদের অব্যাহত ভাঙনে ইউনিয়নের কারিমোড় ও পাটাধোয়াপাড়া গ্রাম দুটি এখন বিলীনের পথে। প্রায় প্রতিদিনই ভাঙছে নদের পাড়। সেই সঙ্গে বাড়ছে মানুষের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তা।
কারিমোড় ও পাটাধোয়াপাড়া গ্রামে বসবাস করেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ। তাদের কাছে এই গ্রাম শুধু বসবাসের জায়গা নয়; এখানেই তাদের শৈশব, পূর্বপুরুষের স্মৃতি, ফসলের মাঠ, কবরস্থান, স্বজনের ঘর এবং জীবনের অসংখ্য গল্প। নদী যখন সেই মাটির দিকেই দিন দিন এগিয়ে আসছে, তখন এই অঞ্চলের মানুষের জীবনও যেন ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে। স্থানীয়দের চোখের সামনে গত তিন দশকে ব্রহ্মপুত্র গ্রাস করেছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। একসময় যে জমিতে ধানসহ নানা ফসল ফলত, সেসব জায়গার অনেকটাই এখন নদের বুকের অংশ। এতদিন নদীভাঙন থেকে দূরে থাকা বসতিগুলোও এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক, শহিদুর রহমান, মোহাম্মদ আলী, নজরুল ইসলামসহ অনেকের ভাষ্য, প্রায় ৩০ বছর ধরে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনের সঙ্গে লড়াই করছেন তারা। এতদিন ফসলি জমি গেছে, এখন নদী লোকালয়ের কাছাকাছি চলে এসেছে। দ্রুত ভাঙন রোধ করা না গেলে বসতভিটাও হারাতে হবে। জমি হারিয়েছি, ফসল হারিয়েছি- এখন যদি ঘরবাড়িও হারাতে হয়, তা হলে কোথায় গিয়ে দাঁড়াব?
শুধু দুটি গ্রামের বসতভিটাই নয়, ভাঙন এখন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে সানন্দবাড়ি বাজারের জন্যও। চরখাওয়া ইউনিয়নের প্রধান এই বাজারকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকা-। বাজারের আশপাশে রয়েছে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, থানা, সেতু, হাসপাতালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ভাঙন অব্যাহত থাকায় এসব স্থাপনাও ঝুঁকির মুখে পড়তে যাচ্ছে। সানন্দবাড়ি বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর প্রভাব পড়বে পুরো ইউনিয়নের মানুষের জীবন ও জীবিকায়।
স্থানীয়রা আরও জানান, প্রতি বছর ভাঙনের পর কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হলেও নদী আবার নতুন করে তীর ভাঙতে শুরু করে। এতে মানুষের ক্ষতি যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে অনিশ্চয়তাও। তাই প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর নদী শাসনব্যবস্থা।
চর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জিয়াউল ইসলাম বলেন, সানন্দবাড়ি এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি, তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। তা না হলে ভাঙনের কবলে পড়ে চর আমখাওয়া ইউনিয়নের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে।
উল্লেখ্য, ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষের এখন একটাই দাবি- নদীকে আর এগোতে দেওয়া যাবে না। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে তাদের বসতভিটা, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষা করা হোক।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে