দলে শুদ্ধি অভিযান চায় বিএনপির তৃণমূল

সাব্বির আহমেদ

রাজনীতি

সম্প্রতি দুষ্কৃতকারীদের হামলায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরের রাড্ডা মা ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্র। মধ্যরাতে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে এই বেসরকারি

2026-09-30T00:34:17+00:00
2026-09-30T00:35:45+00:00
 
  বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজনীতি
দলে শুদ্ধি অভিযান চায় বিএনপির তৃণমূল
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৪ এএম  আপডেট: ৩০.০৯.২০২৬ ১২:৩৫ এএম
গ্রাফিক : সময়ের আলো
সম্প্রতি দুষ্কৃতকারীদের হামলায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরের রাড্ডা মা ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্র। মধ্যরাতে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে এই বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। হামলাকারীরা জমিটির সামনে ‘সমমনা দোকানদার সমিতির’ সাইনবোর্ড বসিয়ে দেয়। এর পেছনে ঘুরেফিরে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি নেতাকর্মীদের নামই উঠে আসছে। অভিযোগের তীর সংরক্ষিত নারী এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির দিকে। এ ঘটনায় সামাজিকমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহল বিএনপিকে সমালোচনার কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে। 

এ পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তারা মনে করছেন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় দলকে আরও কঠোর হতে হবে। নেতৃত্বের সমন্বয় করতে হবে। কিছু কিছু জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে চলা একক নেতৃত্বের অবসান চান তৃণমূল নেতাকর্মীরা। 

মা ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় শাহ আলী থানায় একটি মামলা করেন রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার। তাতে স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফসহ ২০০-২৫০ জনকে আসামি করা হয়। কয়েকজনকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। শুধু এ ঘটনাই নয়, সম্প্রতি কয়েকটি জায়গায় ক্ষমতাসীন দল বিএনপির কিছু নেতাকর্মী বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, যারা দীর্ঘদিন জেল-জুলুম সহ্য করে টিকে আছেন, দলের জন্য লড়াই করেছেন তারা এসব অপকর্ম করছেন না। অপকর্মকারীদের ধরতে দ্রুত দলের ভেতর শুদ্ধি অভিযান দরকার। এতে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। 

সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান সময়ের আলোকে বলেন, তৃণমূলে মাঠের কর্মী হিসেবে আমরা মনে করি সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব রাজনীতিকে টেনে আনছে। পরে ব্যক্তি থেকে দলকে বেশি কালার দেওয়া হচ্ছে। দলের প্রকৃত নেতাকর্মীরা এসব অপকর্ম করতে পারে না। সরকারপ্রধান যেখানে জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যতিব্যস্ত, সেখানে গুটিকয়েক লোক খাই খাই করায় ব্যস্ত। আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সর্বোচ্চ কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। সামনে আরও কঠোর হবেন তিনি। দলে শিগগিরই শুদ্ধি অভিযান হওয়া উচিত। এতে হাইব্রিড নেতারা জালে ধরা পড়বে।

বিএনপির এই তৃণমূল নেতা বলেন, আমরা চাই বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের আমলে যেভাবে দেশ চলেছে, তার ন্যূনতম পুনরাবৃত্তি না হোক। দেশ পরিচালিত হোক সর্বজনের চাওয়া অনুযায়ী। যেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা থাকবে অগ্রাধিকারে। আমরা নিয়মের মধ্য থেকে সবকিছু করতে চাই। মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনা নিয়ে তিনি বলেন,  তদন্ত চলমান। সবকিছু পরিষ্কার হবে।

পাবনা বিএনপির একজন নেতা সময়ের আলোকে বলেন, আমরা চাই দল চলুক সব পর্যায়ে প্রকৃত ত্যাগী নেতাদের নেতৃত্বে। মৌসুমি পাখিরা এসে দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। যাকে তাকে বড় বড় দায়িত্ব দিচ্ছে। যারা বিগত সময়ে বিএনপির প্রকাশ্যে ক্ষতি করেছে তারাও এখন বড় বড় পদে যাচ্ছে, সুবিধা নিচ্ছে। এগুলো বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের সহযোগিতায় হচ্ছে। এগুলো দেখে আমরা মর্মাহত। এমনকি প্রধানমন্ত্রী-রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও কিছু লোক বিভিন্ন ব্যানারে গিয়ে দেখা সাক্ষাৎ করছে, ফ্যাসিবাদের দোসরের সঙ্গে যাদের সুসম্পর্ক ছিল সব সময়। অথচ বিএনপির ত্যাগী তৃণমূল নেতারা প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপতির দেখা-সাক্ষাৎ পান না হাজার চেষ্টা করেও।

প্রায় একই কথা বলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ) সৈয়দ শাহীন শওকত। সময়ের আলোকে তিনি বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে দলে শুদ্ধি অভিযান চালানো উচিত। এতে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দল ভালো ফল করতে পারবে। কারণ কিছু নেতা দলের ক্ষতি করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। আর অপকর্মকারীদের নিশ্চয়ই কেউ কেউ শেল্টার দিচ্ছে; তাদের আগে খুঁজে বের করতে হবে। তাহলে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক রেজাল্ট পাওয়া যাবে। 

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভেঙে ফেলার ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে ছাত্রদলের সাবেক নেতা কানেতা ইয়া লাম-লাম লেখেন, ‘আমি এর কারণ জানতে চাই। কী কারণে এটা ভেঙে ফেলা হলো? একজন সংরক্ষিত নারী সাংসদের এত আস্ফালন কেন? আমি আমার রাজনৈতিক ভাইদের কাছে জানতে চাই। না, আসলেই জানতে চাইছি। একজন যাচ্ছেতাই করবে, দলের ইমেজ শেষ করবে আর আমরা দলকে ডিফেন্ড করে যাব— এটা সম্ভব না।’


গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. মইনুল হাসান সাদিক সময়ের আলোকে বলেন, অসংখ্য নেতাকর্মী বিভিন্ন সময়ে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থেকেছেন, মামলা-হামলা, জেল-জুলুম, গুম-খুন ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন। তারা কখনো দলের ক্ষতি চান না। তারা চান দল ভালোভাবে চলুক। দলের বদনাম হলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। দলের নামধারী কিছু লোক অপকর্ম করছে। তাদের খুঁজে বের করতে হবে। সাংঠনিক ও আইনগত শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ওরা আগেও সুবিধা নিয়েছে, এখনও নিচ্ছে।

গাজীপুরের কাপাসিয়ার টোক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক রুকন সময়ের আলোকে বলেন, দলের ভাবমূর্তি যারা নষ্ট করছে, তারা দলের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ চায় না। তৃণমূলের বহু নেতাকর্মী এখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। ফ্যাসিবাদের মামলা হামলায় কোণঠাসা। দল যখন ক্ষমতায় তখন গুটিকয়েক লোক নানা অপকর্ম করে সবাইকে বদনামের ভাগিদার করছে। হাইকমান্ড নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেবেন; কিন্তু এটাকে বন্ধ করতে আসল ও নকল বিএনপি চিহ্নিত করতে হবে। কারণ দল ক্ষমতায় আসার পর সবাই বিএনপি বনে গেছে। এটা ভালো লক্ষণ নয়।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 
  বিষয়:   শুদ্ধি অভিযান  বিএনপি  তৃণমূল  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: