ইরানের রাজধানী তেহরানের কাছে মঞ্জিলাবাদ এলাকা থেকে বোমা হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে ছয় ‘সন্ত্রাসীকে’ হত্যা করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে চালানো এক অভিযানে তাদের হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কুদস বেজ।
মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কুদস বেজের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় বা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের স্বাধীন কোনো যাচাইয়ের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
কুদস বেজের জনসংযোগ দপ্তর জানায়, স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী দলের বিষয়ে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু হয়। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দলটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
আইআরজিসির দাবি, দলটি ওই অঞ্চলে একটি সন্ত্রাসী হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এরপর তাদের লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয় এবং বোমা হামলার ছক বানচাল করে দেওয়া হয়।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযানে কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে প্রথম বিবৃতিতে নিহতের সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয়নি।
পরে আরেকটি বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযানে ‘তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর’ ছয় সদস্য নিহত হয়েছেন। অভিযানস্থল থেকে বেশ কিছু বিস্ফোরকভর্তি প্যাকেট জব্দ করার দাবিও করেছে আইআরজিসি।
তবে বিস্ফোরকগুলো কী ধরনের ছিল বা কোথায় হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। আইআরজিসির কুদস বেজ জানিয়েছে, অভিযান এখনো শেষ হয়নি। এলাকাটি পুরোপুরি তল্লাশি ও নিরাপদ করার কাজ চলছে বলেও বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
‘হয়তো আমরা ইরানকে উড়িয়ে দেব’
এদিকে আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বুধবার ইরানের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘হয়তো আমরা তাদের উড়িয়ে দেব।’
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। হয় আমরা একটি চুক্তি করব। কিন্তু সময় এসে গেছে। এটি শিগগিরই শেষ হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেকোনো উপায়েই হোক, এটি শিগগিরই শেষ হবে।’
অন্যদিকে, প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ওয়াশিংটনের বাইরে কোয়ান্টিকো মেরিন ঘাঁটিতে সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে দাবি করেছেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নেতৃত্ব এবং সামরিক-শিল্প সক্ষমতা ধ্বংস করেছে।
একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সক্ষমতাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এসব দাবি নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এর মধ্যেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি পাল্টা প্রস্তাব পাওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান।
চলমান সংঘাত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে অচলাবস্থা কাটাতে আলোচনার অংশ হিসেবে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন করা হয়। ফলে প্রণালিটি ঘিরে যেকোনো উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ