সিরাজগঞ্জের তাড়াশে শিলংদহ গ্রামের প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়ক এখনো পাকাকরণ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বর্ষায় সড়কজুড়ে কাদা ও পানি জমে থাকায় হাঁটুসমান কাদা পেরিয়েই বিদ্যালয়ে যেতে হয় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। শুষ্ক মৌসুমে আবার ধুলায় নাকাল হতে হয় স্থানীয়দের।
উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের প্রত্যন্ত শিলংদহ গ্রামে রয়েছে শিলংদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গ্রামটির একমাত্র বিদ্যালয়টিতে যেতে প্রতিদিনই কাঁচা সড়ক পাড়ি দিতে হয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। বৃষ্টি হলে সেই পথ হয়ে ওঠে আরও দুর্ভোগের।
স্থানীয় বাসিন্দা নাজিম উদ্দীন বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও শিলংদহ গ্রামের প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণ হয়নি। বছরের প্রায় সাত মাস সড়কটি কাদায় চলাচলের অনুপযোগী থাকে। আর শুষ্ক মৌসুমের প্রায় পাঁচ মাস ধুলার মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হয়।
তিনি বলেন, বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেক সময় হাঁটুসমান কাদা পেরিয়ে তাদের বিদ্যালয়ে যেতে হয়।
শিলংদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আরিফা পারভীন রত্না বলেন, বৃষ্টি, কাদা ও পানি উপেক্ষা করেই প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যেতে হয় তাঁদের। কারও হাতে থাকে ছাতা, আবার কেউ ভেজা পোশাকেই শ্রেণিকক্ষে পৌঁছান। বিদ্যালয়টি প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থার এই দুরবস্থা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দলবেঁধে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের পথে হাঁটছে। কোথাও কাঁচা সড়কে হাঁটুসমান কাদা, আবার কোথাও জমে থাকা পানি পেরিয়ে যেতে হচ্ছে তাদের। অনেক অভিভাবক ছোট শিশুদের হাত ধরে কিংবা ছাতা মাথায় দিয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিচ্ছেন।
শিক্ষার্থী রাজু আহমেদ বলেন, প্রতিদিন বৃষ্টির মধ্যে ভিজে স্কুলে আসতে হয়। অনেক সময় কাদামাখা রাস্তা পেরিয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে হয়। এতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। তারপরও পড়াশোনার জন্য নিয়মিত স্কুলে আসি।
অভিভাবক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যাতায়াতে ভোগান্তি বাড়লেও সন্তানদের পড়াশোনা ব্যাহত করতে চাই না। তাই কষ্ট হলেও নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠানোর চেষ্টা করছি।
আরেক অভিভাবক আব্দুল হান্নান বলেন, শিলংদহ গ্রামের দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় বিদ্যালয়ে যাতায়াতে দুর্ভোগ বেড়েছে। সড়কটি পাকাকরণের জন্য বিভিন্ন সময়ে সরকারি দফতরে লিখিত আবেদন করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত সড়কটি পাকাকরণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে যোগাযোগব্যবস্থার এই সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
এ বিষয়ে এলজিইডির তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশলী ফজলুল হক বলেন, গুড়মা থেকে শিলংদহ গ্রামের সড়কটি পাকাকরণের জন্য চাহিদা পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত সড়কটি পাকা করণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা যাবে।
সময়ের আলো/জোই