খেলাধুলার চর্চা বাড়িয়ে তরুণ সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করার মাধ্যমে সুন্দর ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। শনিবার দিনাজপুর সরকারি কলেজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার রংপুর বিভাগীয় পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ক্রীড়া খাতের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্রীড়াবিদদের পেশাগত স্বীকৃতি দেওয়ার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ৩০০ খেলোয়াড়কে ক্রীড়া ভাতা দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ আরও খেলোয়াড় ও কোচকে এ সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির প্রথম ধাপ ইতিামধ্যে শেষ হয়েছে। বাছাই করা ৩০৬ জন উদীয়মান ও প্রতিভাবান অ্যাথলেট বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—বিকেএসপিতে উন্নত প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ক্রীড়ার সুযোগ ছড়িয়ে দিতে অবকাঠামো উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান আমিনুল হক। ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। দিনাজপুর বিকেএসপিকে পূর্ণাঙ্গ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুব উন্নয়ন অধিদফতরের মাধ্যমে বর্তমানে ৮৩টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ফ্রিল্যান্সিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক কাজের জন্যও তরুণদের প্রস্তুত করা হচ্ছে। তার দাবি, গত ছয় মাসে ফ্রিল্যান্সিং খাত থেকে ৩৪ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারের ‘আর্ন’ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৯ লাখ যুবক ও যুব নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দিনাজপুরের ১০টি উপজেলাতেও এ কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের কথা জানান তিনি।
রাজনৈতিক বিভাজন এড়িয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে দল মত নির্বিশেষে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তরুণদের খেলাধুলার সুস্থ পরিবেশে সম্পৃক্ত করা গেলে একটি সুস্থ, সুন্দর ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এমপি।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে