ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় অপহৃত ৭ বছরের শিশু রাফি মিয়াকে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সফল অভিযানে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং গাজীপুর ও হালুয়াঘাট থানা পুলিশের যৌথ তৎপরতার ফলে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে এই ঘটনায় জড়িত মূল অপহরণকারীকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়ার সহকারী পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার প্রায় এক মাস আগে শিশু রাফির বাবা মোহাম্মদ মাসুদ মিয়া ব্যক্তিগত কাজে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে যান। সেখানে ‘আকাশ’ ছদ্মনামধারী এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং ওই ব্যক্তি মাসুদ মিয়ার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে সুকৌশলে হালুয়াঘাটে শিশুটির বাড়িতে আসেন ওই ব্যক্তি। পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার পর ঘটনার দিন কৌশলে ছোট বাচ্চাকে নিয়ে বাজারে যাওয়ার কথা বলে শিশু রাফিকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান তিনি।
বিকেলে বাড়ি না ফেরায় এবং কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারের সন্দেহ বাড়ে। এর কিছুসময় পর অপহরণকারী ফোন করে শিশুটির পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে।
পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে জানানো হয়। হালুয়াঘাট থানা পুলিশ দ্রুত তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে অপরাধীর অবস্থান ট্র্যাক করে এবং রাতেই গাজীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পরবর্তীতে গাজীপুর বাসন থানা পুলিশের সহযোগিতায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে রোববার বেলা ১১টার দিকে শিশু রাফিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয় এবং হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় অপহরণকারীকে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপহরণকারী সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তার আসল নাম রাকিবুল ইসলাম; বাবা মৃত শফিকুল ইসলাম, মা মাহমুদা আক্তার। ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সময় সে ‘মো. আকাশ’ নাম ব্যবহার করেছিল। তার স্থায়ী ঠিকানা হালুয়াঘাট হলেও দীর্ঘদিন ধরে সে সাভারে বসবাস করে আসছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত রাকিবুলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু অপহরণ এবং ধর্ষণসহ বিভিন্ন থানায় প্রায় ৪টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী।
এ সময় প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন, সাবেক যুবদলের আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন খান হিরা, তরুণ সমাজসেবক রাফি বিপ্লব, হালুয়াঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি জুলফিকার আলি জুলমতসহ গাজিরভিটা ইউনিয়নের স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সময়ের আলো/জোই