এশিয়ান গেমসের ২০তম আসর শেষ হয়েছে, শেষ হয়েছে বাংলাদেশের পদকের অপেক্ষাও। আইচি-নাগোয়ায় ১৮৭ ক্রীড়াবিদ নিয়ে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ ফিরেছে মাত্র একটি পদক নিয়ে। উশুতে জিন্নাত আক্তারের ব্রোঞ্জই এবারের আসরে বাংলাদেশের একমাত্র সাফল্য। ৪৫ দেশ ও একটি শরণার্থী দল অংশ নেওয়া এবারের এশিয়ান গেমসে পদক জিতেছে ৪০টি দেশ। বাংলাদেশসহ চারটি দেশের ঝুলিতে এসেছে একটি করে ব্রোঞ্জ। একই সংখ্যক পদক নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে ৩৭তম হয়েছে ব্রুনেই, লাওস ও সিরিয়া।
বাংলাদেশের একমাত্র পদকটি এসেছে জিন্নাতের হাত ধরে। উশুর এই ক্রীড়াবিদকে অবশ্য পদক নিশ্চিত করতে খুব বেশি লড়াই করতে হয়নি। কোয়ার্টার ফাইনালের প্রতিপক্ষ নির্ধারিত ওজনের বেশি হওয়ায় ডিসকোয়ালিফাই হলে সরাসরি সেমিফাইনালে জায়গা পান জিন্নাত। শেষ চারে চীনের উ দিয়ের কাছে হারলেও তাতেই নিশ্চিত হয় ব্রোঞ্জ। এর মধ্য দিয়ে ব্যক্তিগত ইভেন্টে ৪০ বছর পর এশিয়ান গেমসে পদক পাওয়ার অপেক্ষা ঘুচিয়েছে বাংলাদেশ।
পদকের সবচেয়ে কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরেছে ক্রিকেট দল। নারী পুরুষ দুই বিভাগেই হয়েছে চতুর্থ। ক্রিকেটের বাইরে কাবাডি, আরচারি ও শুটিংয়েও বাংলাদেশের পদকের সম্ভাবনা ছিল। তবে কোনো ডিসিপ্লিন থেকেই আর সাফল্য আসেনি। পদক তালিকার শীর্ষে অবশ্য চিরচেনা চীন। ১৬৯টি সোনার সঙ্গে তাদের মোট পদক ৩৪১টি। এশিয়ান গেমসের ইতিহাসেও চীনই সবচেয়ে সফল দেশ— সব মিলিয়ে তাদের সোনার সংখ্যা ১ হাজার ৮৪৩টি।
৮৩টি সোনা নিয়ে এবার দ্বিতীয় হয়েছে জাপান। অলটাইম পদক তালিকাতেও দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা দেশটি এ পর্যন্ত জিতেছে ১ হাজার ১৬৭টি সোনা। দক্ষিণ কোরিয়া ৩৯টি সোনা নিয়ে এবারের আসরে তৃতীয়। এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে সোনার হিসাবে তাদের অবস্থান তৃতীয়, মোট ৮২৬টি স্বর্ণপদক রয়েছে দেশটির।
অর্থাৎ শীর্ষে থাকা দেশগুলোর ধারাবাহিকতা যেমন এবারও অটুট ছিল, বাংলাদেশের অবস্থানও তেমনি নেমে গেছে তালিকার একেবারে নিচের দিকে। ১৮৭ ক্রীড়াবিদের বড় বহর নিয়ে গেলেও জিন্নাতের এক ব্রোঞ্জেই শেষ হয়েছে বাংলাদেশের পদক-অভিযান।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে