শিশু-কিশোর ও তরুণদের মরণনেশার হাত থেকে রক্ষা করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিং প্রু। তিনি বলেছেন, মাদকমুক্ত ও আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ায় শিশুদের প্রথম শিক্ষক মা এবং সুরক্ষার অন্যতম বড় হাতিয়ার হলো খেলাধুলা।
রোববার (৪ অক্টোকর) রাতে ঢাকা জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুরুল হক ভিআইপি কনফারেন্স হলে ‘বিশ্ব শিশু দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। ‘সেভ দ্য ইয়ুথ ফোরাম’ ও ‘সাকুরাজাকা জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচারাল সেন্টার’ যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির ভাষণে মন্ত্রী বলেন, শিশু, কিশোর ও যুবসমাজই আমাদের মূল সম্পদ। সন্তানরা সবচেয়ে বড় শিক্ষা পায় মায়ের কাছ থেকে। পারিবারিক শৃঙ্খলা ও ইতিবাচক অভ্যাস গঠনে মায়েদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই পরিবার ও সমাজে মায়েদের সর্বদা শ্রদ্ধার আসনে রাখতে হবে।
নিজের শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, খেলাধুলাই তাকে সব ধরনের বাজে নেশা ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রেখেছিল। তবে বর্তমানে সীমান্ত সংলগ্ন কক্সবাজার ও বান্দরবানসহ বিভিন্ন এলাকার উদীয়মান তরুণরা মাদকের কারণে ধ্বংসের পথে ধাবিত হচ্ছে। তাদেরকে এই মরণনেশা থেকে ফিরিয়ে আনতে সামাজিক উদ্যোগের পাশাপাশি গণমাধ্যমে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার চালাতে হবে।
জাপানি তরুণদের সুশৃঙ্খল জীবনযাত্রার উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, শিশুদের ভালো কিছু শেখার ও জানার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কোটি শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণে সরকার যে স্পোর্টস ইভেন্টের আয়োজন করেছে, তার মূল লক্ষ্যই হলো সন্তানদের শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ এবং মাদকমুক্ত রাখা।
জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—জাতীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, জাতীয় সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা নিশীতা এবং রূপগঞ্জ ইউথ ফ্রন্টের সভাপতি ও যুব সংগঠক নুরন্নবী ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সেভ দ্য ইয়ুথ ফোরামের চেয়ারম্যান হাজী লায়ন এ সরকার বাবু।
সময়ের আলো/জোই